বাংলাদেশের হাতে টেস্টের নাটাই

জিম্বাবুয়েকে ফলোঅনে ফেলবে নাকি বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামবে? রাতভর দ্বিধায় রাখল বাংলাদেশ! তবে তাইজুল বীরত্বে ঢাকা টেস্টের নাটাই এখন বাংলাদেশের হাতে।

ব্রেন্ডন টেলরের সেঞ্চুরির পর বল হাতে ৫ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনটা দারুণ কেটেছে।

নির্বিষ দিনের শেষটা যে এতো সুন্দর হতে পারে তা হয়তো কল্পনাতেও আনেনি কেউ! দিনের দুই সেশনে জোড়ায় জোড়ায় উইকেট। শেষটায় ডাবল। দিনের আলোয় দিনটা সুন্দর করে রাঙাতে না পারলেও পড়ন্ত বিকেলে আঁকা হয়েছে রংধনুর সাত রং।

বিশেষ করে তাইজুলের জন্য তো দিনটা বেশ স্মরণীয়। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ পাঁচ উইকেট শিকার, টানা তৃতীয়। এমন কীর্তি বাংলাদেশের আছে এনামুল ও সাকিবের। দুজনের পাশে নাম লিখিয়ে তো তাইজুল এখন উড়ছেন নীল আকাশে।

 

তবে তার আনন্দ ভিন্ন জায়গায়। জিম্বাবুয়েকে ফলোঅনে ফেলার আনন্দ তো কম নয়। বাংলাদেশের করা ৫২২ রানের পুঁজির বিপরীতে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে করেছে ৩০৪ রান। ২১৮ রানের লিড বাংলাদেশের। সিলেট টেস্ট হারের পর ঢাকা টেস্টে ব্যাটসম্যানরা দিয়েছেন জয়ের ভিত। বোলাররাও দিলেন দারুণ সাড়া। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল কীর্তির পাশাপাশি বল হাতে জ্বলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডানহাতি এ অফ-স্পিনার পেয়েছেন ৩ উইকেট। সিলেট টেস্টে অভিষিক্ত হওয়া আরিফুলের পকেটে গেছে ১ উইকেট। চাতারা চোট পাওয়ায় ছিটকে গেছেন টেস্ট থেকে।

দিনের মধ্যভাগে বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেন ব্রেন্ডন টেলর ও পিটার মুর। ১৩১ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন তারা। দুজনের ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রানের জুটিতে জিম্বাবুয়ে দারুণ জবাব দেয়। কিন্তু জুটি ভাঙার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায় সফরকারীদের ব্যাটিং অর্ডার।

 

তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন টেলর। ভাগ্যের ছোঁয়াও ছিল তার বীরত্বপূর্ণ ইনিংসে। ৯৪ রানে মিরাজের বলে মুশফিক তার ক্যাচ ছাড়েন। বিচলিত না হয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস প্রাণে সঞ্চার হয়। তাইজুলের বলে ইনসাইড আউট শটে কভারের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ৯৫ থেকে ৯৯ রানে পৌঁছান। এক ওভার পর তাইজুলের বলে দুই রান নিয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম এবং দেশের বাইরে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পান টেলর।

টেলরের সেঞ্চুরির আগে অবশ্য বাংলাদেশ পেয়ে যায় ষষ্ঠ উইকেট। গলার কাঁটা হয়ে উঠা টেলর ও মুরের জুটি ভাঙেন আরিফুল। ৮৩ বলে এলডব্লিউ হন। এরপর টেলর ১১০ রানে ফেরেন তাইজুলের দুর্দান্ত ক্যাচে। মিরাজের বল স্কয়ার লেগ ও মিড উইকেটের মাঝ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দেন টেলর। নিজের বিপরীত দিকে ঝাঁপিয়ে বল তালুবন্দি করেন তাইজুল। ১৯৪ বলে ১০ চারে ১১০ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি। টেলর ফেরার এক বল পরই মাভুতাকে স্লিপে তালুবন্দি করান মিরাজ। সফরকারী শিবিরে শেষ আঘাতটি করেন তাইজুল। বাঁহাতি স্পিনারের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন চাকাভা।

 

এর আগে মঙ্গলবার মিরপুরে প্রথম সেশনে ৭৫ রানে জিম্বাবুয়ে হারায় ২ উইকেট। স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ১০০ রান নিয়ে যায় বিরতিতে। আগের দিন হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে সাজঘরে পাঠানো তাইজুল আজও দিনের শুরুতে এনে দেন সাফল্য। নৈশ প্রহরী ডোনাল্ড ত্রিরিপানো ৮ রানে স্লিপে মিরাজের ক্যাচে পরিণত হন।

বিরতির ঠিক আগে রিভিউ নিয়ে ওপেনার ব্রায়ান চারিকে ফেরায় বাংলাদেশ। অফ স্পিনারের বল স্পিন করে চারির গ্লাভস ছুঁয়ে যায় শর্ট লেগে। একহাতে বল তালুবন্দি করে আপিল করেন মুমিনুল। আম্পায়ার ধর্মাসেনা সাড়া না দিলে রিভিউ চান মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে আসে।

 

মধ্যাহ্ন বিরতির পরপর জিম্বাবুয়ে শিবিরে বাংলাদেশের জোড়া আঘাত। দুটি সাফল্যই তাইজুলের হাত ধরে। দুটিই বোল্ড আউট। সিলেট টেস্টের নায়ক শন উইলিয়ামসের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল আঘাত করে স্ট্যাম্পে। সিকান্দার রাজা বোল্ড হন রানের খাতা খোলার আগেই। দ্বিতীয় সেশনে এ দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে উচ্ছ্বাসে ভাসান। তখনও ফলোঅন থেকে ১৯২ রানে পিছিয়ে জিম্বাবুয়ে। মুর ও টেলর বীরত্বে ফলোঅন ব্যবধান কমেছে শুধু। ২১৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে পাঠায় কিনা সেটাই দেখার। তবে ম্যাচে যে রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে তা বলাই যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − ten =