আরো ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত সরকারের

আরো ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশি হজযাত্রীর কোটা পুরণ করতে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২৪ জুলাই বিকাল ৫টার মধ্যে এজেন্সিকে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের আবেদন করতে হবে। তবে শর্তসাপেক্ষে এজেন্সিগুলোকে এই সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শনিবার রাতে রাজধানীর বেইলিরোডের বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মতিউর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চলতি হজে বাংলাদেশের নির্ধারিত কোটা যাতে অপূর্ণ না থাকে, কোটার সমসংখ্যক বাংলাদেশি হজযাত্রী যাতে হজ পালন করতে পারেন এবং সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সরকার বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে ৪শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের জায়গায় অতিরিক্ত আরো ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হজ এজেন্সিকে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ প্রতিস্থাপনের জন্য তার নিজস্ব প্যাডে হজ অফিসের পরিচালক বরাবরে আগামী ২৪ জুলাই বিকাল ৫টার মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনটি অনলাইনেও নিশ্চিত করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রতিস্থাপনযোগ্য হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা অথবা মৃত্যুজনিত কারণে হজ পালন করতে পারবে না মর্মে উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে। প্রতিস্থাপনের প্রাপ্তির জন্যে এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে না মর্মে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গিকারনামা আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।

প্রতিস্থাপন তালিকা ভুয়া হলে এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ‘হজ পরবর্তী সময়ে এজেন্সির প্রতিস্থাপন তথ্য যাচাই করা হবে। যদি মিথ্যা প্রমাণ হয় তাহলে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, জাতীয় হজনীতি ও ওমরাহ নীতি ১৪৩৯ হিজরি অনুযায়ী মৃত্যুজনিত ও গুরুতর অসুস্থজনিত কারণে প্রতিটি এজেন্সি তার নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্য থেকে ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপন করতে পারে। হজনীতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে প্রায় সব এজেন্সি তাদের প্রতিস্থাপন কোটা পুরণ করে ফেলেছে। সেই হিসেবে মোট ৪ হাজার ৬১৪জন হজযাত্রী প্রতিস্থাপন হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২১জুলাই পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৪২৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ২৫ জনসহ মোট ৬৭হাজার ৪৫২ জন হজযাত্রীর ভিসা পাওয়া গেছে। মোট ৫১১টি হজ এজেন্সির ১ লাখ ৪৪২জন হজযাত্রীর বিপরীতে বিমান বাংলাদেশ ও সৌদি এয়ারলাইন্স এর অনুকূলে টিকেট প্রাপ্তির জন্য পে অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু এজেন্সিগুলো অবশিষ্ট ৩৭৯৯০ জন হজযাত্রীর জন্য এখনো টিকেট সংগ্রহ করেনি, পেঅর্ডারও ইস্যু করেনি। এ অবস্থায় তাদেরকে পে অর্ডার ইস্যু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মসচিব আনিছুর রহমান, যুগ্ম সচিব হাফিজুর রহমানসহ হজ অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + 20 =