‘ক্ষমতায় থাকতে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে’

সরকার ক্ষমতায় থাকতে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেক শোরে এক গোলটেবিল আলোচনায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্য সরকার এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই কারণে তারা আজকে কোনো নিয়ম-কানুন, ন্যায়-নীতি, সংবিধান কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চাইছেন।’

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ‘নোট করতে’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন কী হচ্ছে তা নোট করুন। আমরা একটি গণতান্ত্রিক জাতি। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, আমরা গণতন্ত্রের বিশ্বাস করি। আমি মনে করি বিএনপিকে ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগনের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না।’

‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে বিএনপি।

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নানা কৌশলে সম্পূর্ণভাবে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এখন ভোটারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, বিরোধী দলের এজেন্টরা কেন্দ্রে যেতে পারে না।’

দলের চেয়ারপারসন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে নির্জন কারাগারে বন্দি করে রেখেছে অভিযোগ করে তার প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার বিষয়গুলো তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ‘রাইট টু লাইফ: এ ফার ক্রাই ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

বিএনপি মহসচিব মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় মানবাধিকারসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য রিয়াজ রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রাক্তন সিরাজুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান, রাষ্ট্রদূত সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মানবাধিকার বিষয়ক সচিব মাইক ক্রেমার, ফ্রান্স দূতাবাসের উপ-প্রধান জ্যঁ-পিয়ের পঁশে, ভারতের রাজনৈতিক বিভাগের শান্তনু মুখার্জীসহ কানাডা, সুইডেন, পাকিস্তান, ইরান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ প্রভৃতি দেশের কুটনীতিকরা অংশ নেন।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, রুহুল আলম চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, জয়নুল আবেদীন, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল কাইয়ুম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমা মুন্নী, রুমিন ফারাহানা, মীর হেলালউদ্দিন, সারোয়ার হোসেন, সৈয়দ এজাজ কবীর, জি-নাইন এর সাধারণ সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্থ, আহাদ আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × four =