কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ ১০ দিনের রিমান্ডে

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ রাশেদ খানের ফের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নুরের আদালত পৃথক দুই মামলায় শুনানি শেষে পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

কোটা সংস্কার নিয়ে ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় ৫ দিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় ভাঙচুরের একটি মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের ওয়েবসাইট অ্যান্ড ই-মেইল ক্রাইম টিমের ইন্সপেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম ৫ দিনের রিমান্ড শেষে পুনরায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

অন্যদিকে, উপাচার্যের বাসায় হামলার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. ফজলুর রহমান আসামি রাশেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনসহ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুন আসামি রাশেদ তার নিজের ফেসবুক পেজ মুহাম্মাদ রাশেদ খান থেকে ফেসবুক গ্রুপ ‘কোটা সংস্কার চাই (সকল ধরনের চাকরির জন্য)’ এ সন্ধ্যা ৮টা ৮ মিনিটে লাইভে এসে একটি বক্তব্য প্রদান করেন। সেখানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘মনে হচ্ছে, তার বাপের দেশ। সে একাই দেশের মালিক, ইচ্ছামতো যা ইচ্ছা তাই বলবে, আর আমরা কোনো কথা বলতে পারব না।’ উক্ত বক্তব্য ছাত্র সমাজের প্রতি উস্কানিমূলক। যার মাধ্যমে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এ আসামি জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অন্দোলনের জন্য ৭ লাখ টাকার অধিক সংগ্রহ করে। ওই টাকার উৎস উদঘাটন, আসামির ব্যবহৃত বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম বিশ্লেষণ এবং নাশকতা পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত ফেসবুক গ্রুপের সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

অন্যদিকে, উপাচার্যের বাসায় হামলার মামলায় রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের বিশেষ সুবিধার কারণে এবং তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ও মদদে এ আসামি ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে। ওই স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং যে সকল আসামি ঢাবি ভিসির বাসভবনে সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী জাইদুর রহমান জাহিদ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

আসামিপক্ষের বক্তব্যের পর বিচারক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় রিমান্ড চাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এ আসামি ৭ লাখ টাকার বেশি সংগ্রহ করেছে। এ সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে উভয় মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে আদালতে রাশেদের বাবা নবাই বিশ্বাস, মা সালেহা বেগম, বোন রুপালি এবং স্ত্রী রাবেয়া আলো উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় আদালত এ আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে রোববার আদালতে হাজির করে দুই মামলায় ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

এর আগে গত ১ জুলাই সকালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়। এর পরেই রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলার বাদী আল নাহিয়ান খান জয় অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে সব চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করার ঘোষণা দেওয়ার পরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যা আমরা বিভিন্ন পত্রিকা, টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। কিন্তু এখনো কেন প্রজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে না, এ বিষয়টিকে পুঁজি করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে সারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য রাশেদ খান গত ২৭ জুন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মানহানিমূলক ও নাশকতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন।

তার (রাশেদ খান) এ বক্তব্যের কারণে প্রধানমন্ত্রীর মানহানি হয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অরাজকতার সৃষ্টি হতে পারে বলে আমরা মনে করছি।

গত ৮ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাবির উপাচার্যের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সিকিউরিটি অফিসার এস এম কামরুল আহসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের মামলা করেন। সে সময় আন্দোলনকারীরা রাস্তা বন্ধ করে টায়ার ও আসবাবপত্র জ্বালানোসহ নাশকতা এবং পুলিশকে মারধর করে ও কর্তব্য পালনে বাধা দেয়। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − 6 =