যে শিক্ষক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে তাকে কি ছেড়ে দেওয়া যায়?

অধ্যাপক ড. মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশও বহাল রেখেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি মেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হচ্ছেন অভিভাবক-সমতুল্য। আর সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছে। এ ধরনের ব্যক্তিকে কি ছেড়ে দেওয়া যায়?

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণিত ডিসিপ্লিনের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১৯২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

চাকরিচ্যুতির আদেশে বলা হয়, গণিত ডিসিপ্লিনের জনৈক ছাত্রী কর্তৃক যৌন হয়রানির আনীত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত যৌন নিপীড়ন অভিযোগ কমিটির কাছে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নীতিমালা, ২০০৮-এর ৬.৩(ঝ) নং ধারা অনুযায়ী আপনার নৈতিক অসচ্চরিত্রতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হলো। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। পরে হাইকোর্ট চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘাষণা করে রায় দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষের পক্ষে অ্যাডভোকেট এএম আমিনউদ্দিন ও শিক্ষকের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানি করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ উপরোক্ত আদেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 3 =