ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ১ জুন থেকে

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী পরিবহনে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ১ জুন (শুক্রবার) থেকে। চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। আর ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১০ জুন (রোববার), চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত।

অগ্রিম টিকিটের ২৫ শতাংশ বিক্রি হবে অনলাইনে, বাকিটা টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে। আর একজন যাত্রীর কাছে চারটির বেশি টিকিট বিক্রি করা হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।

৩০ রোজা পূর্ণ হলে আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হওয়ার কথা।

সে হিসেবে ঈদে বাড়ি গমনেচ্ছু যাত্রীদের ১ জুন দেওয়া হবে ১০ জুনের (রোববার) টিকিট। ২ জুন দেওয়া হবে ১১ জুনের (সোমবার), ৩ জুন দেওয়া হবে ১২ জুনের (মঙ্গলবার), ৪ জুন দেওয়া হবে ১৩ জুনের (বুধবার), ৫ জুন দেওয়া হবে ১৪ জুনের (বৃহস্পতিবার) এবং ৬ জুন দেওয়া হবে ১৫ জুনের (শুক্রবার) টিকিট।

আর ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে গমনেচ্ছু যাত্রীদের ১০ জুন দেওয়া হবে ১৯ জুনের, ১১ জুনে দেওয়া হবে ২০ জুনের, ১২ জুনে ২১ জুনের, ১৩ জুনে ২২ জুনের, ১৪ জুনে ২৩ জুনের এবং ১৫ জুনে দেওয়া হবে ২৪ জুনের ফিরতি টিকিট।

রেলমন্ত্রী জানান, ট্রেনে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টহল, ১০ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ছুটিও বাতিল করা হবে।

মুজিবুল হক বলেন, এবার ঈদে মোট সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন থাকছে। ঈদের পাঁচ দিন আগে এবং সাত দিন পর পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। রেলে এই ১২ দিন কোনো বন্ধ থাকবে না। এই দিনগুলোতে সারা দেশের সব রুটেই ট্রেন চলাচল করবে।

তিনি জানান, ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যে ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে, সেসবের টিকিটসংখ্যা হবে ২২ হাজার। রেলপথের একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন।

মন্ত্রী আরো জানান, বিক্রি হওয়া টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না। ঢাকা স্টেশনে মোট ২৬টি কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে এসব টিকেট। এর মধ্যে দুইটি কাউন্টার সংরক্ষিত থাকবে নারীদের জন্য।

ঈদ টিকিটের কালোবাজারি প্রতিরোধে বড় বড় রেল স্টেশনগুলোতে রেলওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। জেলা প্রশাসনের সহায়তাতেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া নাশকতা প্রতিরোধ করতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ রেলওয়ে কর্মচারীদের কার্যক্রম জোরদার করা হবে। রেলযাত্রা সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে আগামী ১০ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সাথে সম্পৃক্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটিও বাতিল করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামমুখী বাড়তি যাত্রীর চাপ সামলাতে প্রতিদিন ১৫ হাজার বেশি যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা নিয়েছে রেলওয়ে। ঈদ উপলক্ষে চলবে সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন। এর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী ও পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর রুটে ঈদের আগে ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন এবং ঈদের পরে ১৮ জুন চলবে বিশেষ ট্রেন। এ ছাড়া ঈদের দিন চলবে ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার ও ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে বিশেষ ট্রেন।

মন্ত্রী জানান, উপমহাদেশের অন্যতম বড় ঈদের জামাত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে। এই ঈদগাহে যাতায়াতের জন্য ঈদের দিন ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ রুটে দু’টি ট্রেন চালানো হবে।

এদিকে ১১ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও চলবে। তবে ১৫ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 18 =