আগামী অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি হবে ৫ শতাংশ

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ ঘাটতি প্রাক্কলন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর বাজেটের আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার ২০২ কোটি টাকা। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে এর কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হবে। বাকি অর্থ ব্যাংক-বহির্ভূত ঋণ ও সঞ্চয়পত্র থেকে সংগ্রহ করা হবে।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের ম্যানিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে কোঅর্ডিনেশন ও সম্পদ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার ঠিক করা হয়েছে। এই আকার থেকে কিছুটা যোগ-বিয়োগ করে আগামী ৭ জুন বাজেট পেশের কয়েক দিন আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হচ্ছে সাত দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে যা ছিল সাত দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন ইতোমধ্যে বলেছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে সাত দশমিক ৬৫ শতাংশ। এছাড়া বৈঠকে আগামী অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে এনবিআর-বহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে, আগামী অর্থবছরে কর ব্যতীত প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের এডিপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যোগান দেওয়া হবে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেট ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়ার কারণে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার মূল বাজেটে থেকে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে বাজেটে কমেছে সাত দশমিক ১৮ শতাংশ।

বিভিন্ন বছরের বাজেট দলিলাদি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেট কাটছাঁট করা হয়েছিল প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যা ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট কাটছাঁটের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা। আর এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার বড় অংকের বাজেট সংশোধনের মূল কারণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতা। চলতি অর্থবছরে বাজেটে রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে দুই লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রাপ্তির মধ্যে এনবিআরের জন্য লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না- এই পূর্বাভাসের কারণে এনবিআর-এর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + nine =