করের আওতায় আসছে উবার, পাঠাও ও সিএনজি

করের আওতায় আসছে উবার, পাঠাও, ক্যাব, সিএনজিসহ সংশ্লিষ্ট যাত্রীসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বুধবার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়া এ কথা জানান।

অর্থনৈতিক বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নেতাদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইয়োলো বাস আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব অত্যন্ত যৌক্তিক। এছাড়া করের আওতা বাড়াতে উবার, পাঠাও, ক্যাব, সিএনজিসহ সংশ্লিষ্ট যাত্রীসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে করের আওতায় আনা হবে।

সভায় ইআরএফ নেতারা বলেন, উবার, ক্যাব, সিএনজির মালিকরা বেশ ভালো আয় করছেন। কিন্তু তারা করের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই তাদেরকে করের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বেশ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ইয়োলো বাস জরুরি। তবে এসব বাস আমদানিতে উৎসাহী করতে তা শুল্কমুক্ত রাখতে হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে।

ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারের লিস্টেড কোম্পানি এবং নন লিস্টেড কোম্পানিগুলোর কর হার ব্যবধান ১০ শতাংশ। এক্ষেত্রে লিস্টেড কোম্পানির করহার আরেকটু কমাতে হবে। কর সুবিধা দেওয়া হলে নন-লিস্টেড কোম্পানিগুলো বাজারে আসবে। তাদের ওপর মনিটরিং বাড়বে। ফলে করহার কমানো সত্বেও মোট করহার কমবে না বরং বাড়বে। এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত না হলে তাদের করহার বাড়াতে হবে। কারণ বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যাপক মুনাফা করলেও কর্মসংস্থানে এদের অবদান কম।

এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এটি উত্তম প্রস্তাব। শেয়ারবাজারের লিস্টেড কোম্পানি এবং নন লিস্টেড কোম্পানিগুলোর করহার ব্যবধানের বিষয়টি দেখা হবে। আর বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসতে আমরা বলতে পারি।

বৈঠকে ইআরএফের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন বাবলু বলেন, ঢাকায় যানজটের কারণে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়। ঢাকায় ২৫ লাখ শিক্ষার্থী আছে। এরা যখন রাস্তায় নামে, সাথে আরো ১৫ লাখ অভিভাবক নামে অর্থাৎ প্রায় ৪০ লাখ। তাদের একটা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে আসতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ইউনিফর্মের আদলে ইয়োলো বাস আছে। কিন্তু আমাদের ঢাকায় সেটি নেই। অনেকের আগ্রহ থাকলেও ট্যাক্সের ভয়ে গাড়ি নামান না। এক্ষেত্রে ট্যাক্স মওকুফ করে দিলে অনেক গাড়ি নামবে। তাহলে ঢাকার যানজট অর্ধেক নেমে যাবে।

ইআরএফ নেতারা বলেন, আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। সেই ক্ষেত্রে ব্যক্তি শ্রেণির আয়ের করমুক্ত সীমা বাড়েনি। তাই ব্যক্তি শ্রেণির আয়ের কমমুক্ত সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা করা উচিত। করপোরেট কর কমাতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কম দাম দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রেশনের কারণে রাজস্ব ফাঁকির দিচ্ছে। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। এনবিআরের করপোরেট কর কমানোর বিষয়ে চিন্তা রয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করের ব্যবধান বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − ten =