বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি আমানত ২৫ শতাংশ বাড়ছে

সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো ব্যাপক তারল্য সংকটে ‍ভুগছে। এ তারল্য সংকট মেটাতে এখন থেকে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বর্তমানে এ হার ২৫ শতাংশ।

রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এম ইউনুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ও জনতা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম আজাদ বক্তব্য দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের অর্থের ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে হতো, সেটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে সিদ্ধান্ত অতিসত্বর কার্যকর হবে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে হবে।

বিদ্যমান নিয়মে, সরকারি আমানতের ৭৫ শতাংশ রাখতে হতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে। বাকি ২৫ শতাংশ পেত বেসরকারি ব্যাংকগুলো। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সরকারি অর্থের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকে রাখার দাবি জানানো হচ্ছিল। অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণার ফলে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হলো।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে, ঋণের অনুমোদন এবং ঋণ আদায়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে।

ঋণখেলাপীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, খেলাপি ঋণের বোঝা পুরনো দিনের তুলনায় তেমন বড় হয়নি। আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন ছিল ৪০ শতাংশ খেলাপি ঋণ। সেখান থেকে এখন তা ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। আশা করছি, এটা এক ডিজিটে নেমে আসবে। এটা নির্ভর করছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার দক্ষতার ওপর।

নির্বাচনের বছরে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে না, এ আশা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বছর অর্থনীতি ভালো কাজ করে না। কিন্তু এখানে অর্থনীতির যে অবস্থা তা কোনোভাবেই অস্থিতিশীল হওয়ার উপায় নেই।

ব্যাংকিং খাতের জন্য স্বাস্থ্যকর না হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইনভেস্টমেন্ট ফাইন্যান্সিং করে যাচ্ছে, মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর কারণ আমরা এতো দিনে একটা ক্যাপিটাল মার্কেট সৃষ্টি করতে পারিনি। চেষ্টা কম করিনি, কিন্তু সেভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারিনি।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংকিং খাতে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ক্যাপিটাল মার্কেট সৃষ্টি করা। এজন্য আমরা ঠিক করেছি, মাস দুয়েকের মধ্যে ছোট একটি গ্রুপকে দায়িত্ব দেব কীভাবে তা সৃষ্টি করা যায় তার উপায় বের করার জন্য।

নির্বাচনের বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের ব্যাংকাররা একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন- এ মাসের মধ্যে ইন্টারেস্ট রেটকে এক ডিজিটে নামিয়ে আনবেন। এ বছর এটি থাকা উচিত। আকস্মিকভাবে ডিপোজিট বিল বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়, অন্যায় কাজ হয়েছে।

জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা বলেন, আধুনিক সময়োপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দিতে হবে। যত প্রযুক্তি আসবে, সে অনুযায়ী নতুন ধরনের সুযোগও আসবে। এজন্য নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, রিটেইল ব্যাংকিং এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দিতে হবে। নতুন ঋণ দেওয়ার আগে ঝুঁকিগুলো দেখতে হবে। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ব্যাংক আরো এগিয়ে যাবে বলে আশা করি।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবির যৌথ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) এক শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী, বিএবির সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 3 =