অসত্য প্রমাণ হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব : মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, যেসব নেতা বেশি গণতন্ত্রের কথা বলেন, তাদের নির্বাচনী এলাকায় বিরোধী দল ঘরোয়া বৈঠকও করতে পারেন না। এ কথাগুলো যদি কেউ অসত্য প্রমাণ করতে পারে তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘একটা নতুন খবর পেলাম। যেটা এতদিন সন্দেহ করে আসছিলাম। সেটা হলো, নির্বাচনের একটা নীল নকশা সরকার করেছে। সেই নীল নকশাটা কী? নীল নকশাটা হলো বিরোধী দল যাতে নির্বাচনে না থাকে। আওয়ামী লীগ এককভাবে আবার এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে যাতে কোনো দল আর নির্বাচনে না আসে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরো একটা নির্বাচন করবে। সেটা তাদেরই একজন নেতা খোলামেলাভাবে বলেই দিয়েছেন।’

মওদুদ আরো বলেন, ‘বিজয় তাদের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তার মানে নীল নকশা অনুযায়ী নির্বাচন হয়ে গেছে। সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা। গেজেট নোটিফিকেশন হবে। আর শপথ গ্রহণ হবে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। সুতরাং এতদিন আমরা যে সন্দেহ করে আসছিলাম আজকে তারা নিজেরাই অজ্ঞাতেই মনে যা আছে সেটা হঠাৎ করে বলে ফেলেছে। কিন্তু ধরা পড়ে গেছে দেশের মানুষের কাছে। তারা ধরা পড়ে গেছে’।

এ বিষয়ে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের মাটিতে হতে দেওয়া হবে না। এ নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা বলেছেন। আজকে মার্চ মাসে বলছেন সব হয়ে গেছে, আনুষ্ঠানিকতা বাকী।’

বর্তমান রাজনীতি নিয়ে প্রাক্তন এ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখন চলছে মিথ্যাচারের রাজনীতি। তারা বলে, তারা ভাংচুরের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এই ২০০৬ সালেও তারা লগি বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে ৬/৭ জন মানুষ হত্যা করে নৃত্য করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আনার জন্য ১৭৪ দিন হরতাল দিয়েছে। শত শত গাড়ী পুড়িয়েছে। শেরাটনের মোড়ে বাস পুড়িয়ে ১৪ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এটাও ভুলে গেছে।’

সরকার দলীয় নেতাদের সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘যারা বেশি গণতন্ত্রের কথা বলে তাদের এলাকায় আপনারা (সাংবাদিকরা) যান। আপনারা কি দৃশ্য দেখবেন আমি বলি, নিজেদের এলাকায়-প্রথম হলো তারা ভোটে নির্বাচিত হয়নি। নিজেদের এলাকায় বিরোধী দলকে ঘরোয়া বৈঠক পর্যন্ত করতে দেয় না। ঢাকায় বসে বলছে যে, দেশে গণতন্ত্র চলছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে।’ ‘আমি যে কথাগুলো বলছি এটা যদি কেউ বলে, কেউ এটা অসত্য বলতে পারে, প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো। এ কথাগুলো সত্য, অতি সত্য।’

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘যেদিন তিনি (খালেদা জিয়া) কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন সেদিন থেকে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসবে। সেই জোয়াড়ে বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে। এটাই সরকারের আতঙ্ক। সেই আতঙ্ক আমরা বিজয়ের মাধ্যমে দূর করবো।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বময় সৈরাচার সরকারগুলোর যেমন পতন হয়েছে, বর্তমান সরকারের পতনও একইভাবে হবে। এটা ইতিহাসের অবধারিত পরিণতি। এখান থেকে কেউ নিস্তার পায়নি। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা নাছির উদ্দিন হাজারীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম. জাহাঙ্গীর আলমেরর সঞ্চালনায় প্রতিবাদী আলোচনা সভায় বিএফইউজে (একাংশের) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো: আনোয়ার বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − two =