বাগেরহাটে নির্মাণাধীন উপকূলীয় বাঁধে ধস : এলাকায় আতঙ্ক

বাগেরহাটের শরণখোলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন উপকূলীয় বাঁধরক্ষা প্রকল্পের ৩৫/১ পোল্ডারে ৩০০ মিটার এলাকা ধসে গেছে।

শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় বাঁধের ওই পয়েন্টে ধসে বলেশ্বর নদীতে বিলীন হয়েছে। আরো প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধের ভয়াবহ ভাঙনে সাউথখালী ইউনিয়নের দুটি গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী (৬০), শাহাজাহান হাওলাদার (৫৫), তাছেন উদ্দিন হাওলাদার (৭৫), আবু তালেব (৪৫), ইব্রাহিম হাওলাদার (৪৮) বলেন, ‘শনিবার সকালে বাঁধের বিশাল অংশ দেবে যায়। ভাঙনের শব্দে বাঁধের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাঁধের ভেতরের পাশেও বিশাল এলাকা নিয়ে ফাটল ধরেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের মধ্যেই সম্পূর্ণ বাঁধ বিলীন হয়ে যাবে। এতে বগী, চালিতাবুনিয়া গ্রামের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, পুকুরসহ কয়েকশ একর ইরি ধানের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় এ এলাকার মানুষ একটু স্বস্তি ফিরে পেয়েছিল। কিন্তু নদী শাসন না করেই বাঁধ নির্মাণ করায় তা কোনো কাজে আসছে না। একদিকে নির্মাণকাজ চলছে, আরেক দিক থেকে ধসে পড়ছে। শুধু নামেই টেকসই বাঁধ, আসলে কাজের কাজ কিছুই না। বাঁধ টেকসই করতে হলে আগে ব্লক ডাম্পিং করে নদী শাসন করতে হবে। তা না হলে সরকারের কোটি কোটি টাকা নদীতে ভেসে যাবে।

এছাড়া বগী বন্দর থেকে আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত আরো প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধের অন্তত ১০টি পয়েন্টে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বাঁধের এসব ঝুঁকিপূর্ণ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কোস্টাল এমব্যাংকমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সিইআইপি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘বাঁধের দক্ষিণ পাশের এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কয়েকটি স্থানে প্রায়ই ভাঙছে। নদী শাসনের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে বাঁধের পেছন থেকে এক কিলোমিটার নতুন বেড়িবাঁধ দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর সহায়তা প্রয়োজন। পরবর্তীতে নদী শাসনের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো প্রস্তাবনা অনুমোদন হলে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × three =