‘নায়িকা উনিশ-বিশ শট দিলেই সমালোচনা শুরু হয়ে যায়’

২০০৬ সালে আমি চলচ্চিত্রে পা রাখি। সে সময় অশ্লীলতার থাবা কিছুটা ছিলো। কিছু সিনেমায় নারী শিল্পীদের পোশাক দৃষ্টিকটু ছিলো। আমাকেও তখন কেউ কেউ এ ধরনের পোশাক পরতে বলতেন। আমি এড়িয়ে চলতাম। এ নিয়ে মনোমালিন্যও হয়েছে পরিচালক ও প্রযোজকের সঙ্গে। পোশাক নিয়ে আমাকে প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। আমি বিষয়টি রিকভারও করতে পেরেছি।

আমার শুরুটা হয়েছিল ভালো একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ডিপজল ভাইয়ের প্রডাকশন হাউজ ছিলো সেটা। সেখানে আমাকে কেউ এমন প্রস্তাব দেয়নি। এরপর সিনেমা যখন হিট হলো, দর্শকের ভালোবাসা পেলাম, আর কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়নি। আমার ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ কাজ শাকিব খানের সঙ্গে। শাকিব খান সবসময় নিজের চরিত্রটাকে বেশি হাইলাইট করতেন। সেক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষতি শিকার করতে হয়েছে। ফলে নায়িকা নির্ভর কোনো সিনেমায় এখন পর্যন্ত অভিনয় করা হয়নি।

আমরা বাংলাদেশী। আমাদের দেশ পরিচালিত হচ্ছে নারী দ্বারা। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, বিরোধী দলের নেত্রী নারী। ফলে মেয়েরা অনেক সাহসী হচ্ছে। নারী এখন শুধু ঘরের চার দেয়ালে বন্দি নেই। তারা এখন অনেক এগিয়েছে। আমি নারী বলেই সন্তানের মা হয়েছি এবং সন্তানের কারণেই তাকে (শাকিব খান) মানতে হয়েছে আমি তার স্ত্রী। একজন নারী হিসেবে এটা আমি পেরেছি। নারী বলেই আমি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি যে, আমার বিবাহিত জীবন লুকানোর নয়।

এখন কিছু মেয়েরা জীবন চলার পথে বিভিন্ন পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিজেকে সামলাতে পারে না। তারা মাদক নেয়, আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। আমি বলতে চাই, প্রেম বা বিবাহিত জীবনে সমস্যা হতেই পারে। এই অপরাধ একার না। সংসার দুজনের, সম্পর্ক দুজনের। তাহলে একা নিজেকে অপরাধী ভাবার মানে হয় না। প্রতিটি নারীকে বলতে চাই, নিজেকে কখনও ছোট মনে করতে নেই। আত্মহত্যার পথে না গিয়ে ঘুড়ে দাঁড়াও। প্রতিবাদ করো। নারী বলেই মাথা নত করে থাকতে হবে এটা ভুল।

আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার কারণে সিনেমায় নারীদের জন্য সমস্যা রয়েই গেছে। যেমন ধরুন একজন হিরো যেভাবেই শট দিক না কেন দর্শক সেই দৃশ্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবে না বা সেটা ভালোভাবে নেয়। কিন্তু একজন নায়িকা উনিশ-বিশ শট দিলেই সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। এজন্যই নারীদের অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সিনেমায় কাজ করতে হয়। পরিশেষে বলতে চাই, নারী-পুরুষ অসমতা দূর করে ঢাকাই সিনেমা এগিয়ে যাক।

অনুলিখন: রাহাত সাইফুল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 16 =