‘২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা’

‘২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ এবং বাজার সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। আর টার্গেট পূরণ করতে হলে আমাদের নন ট্রেডিশনাল আইটেমগুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণ ও সহজীকরণ’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের বিনিয়োগবান্ধব চমৎকার পরিবেশ। শিল্প প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ। দেশে পর্যাপ্ত দক্ষ জনশক্তি রয়েছে, তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বমানের রপ্তানি পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। এই সুযোগকে আমাদের কাজ লাগাতে হবে।’

ননট্রেডিশনাল আইটেমগুলোর ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ভরসা করে থাকলে চলবে না। বিশ্ববাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি তৈরি পোশাক। ২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই জায়গায় পৌঁছতে হলে ননট্রেডিশনাল আইটেমগুলোর ওপর জোর দিতে হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন শক্তভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দেশে বড় বড় গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। ফ্যাক্টরিগুলো পরিবেশবান্ধব।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেট গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধানের পর সর্বোচ্চ পয়েন্টের ভিত্তিতে ১০টি তৈরি পোশাক ফ্যাক্টরিকে এনার্জি অ্যান্ড এনভাইরনমেন্টাল ডিজাইন (এলইইডি) সার্টিফেকশন দিয়ে থাকে। এবার ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল যে ১০টি তৈরি পোশাক ফ্যাক্টরিকে এলইইডি সনদ দিয়েছে তার মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারসহ বাংলাদেশের মোট সাতটি ফ্যাক্টরি রয়েছে। এই অর্জন আমাদের জন্য গৌরবের। এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিরল সম্মানের।’

‘অনেক বাধা-বিপত্তি সফলভাবে অতিক্রম করে বাংলাদেশ এখন তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৭২-৭৩ সালে ২৫টি পণ্য ৬৮টি দেশে রপ্তানি করে আয় করত ৩৪৮.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজ বিশ্বের প্রায় ১৯৯টি দেশে ৭৪৪টি পণ্য রপ্তানি করে আয় করছে সার্ভিস সেক্টরসহ ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার,’ উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ামক সংস্থা ডব্লিউটিও প্রদত্ত সকল বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণ করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এই সুবিধা অর্জন করতে গেলে রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে। বিশ্ববাণিজ্য ক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ সক্ষম। তৈরি পোশাক খাতে শিশুশ্রম বন্ধ, কোটা প্রথা বাতিল, কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি নির্মাণসহ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।’

তিনি বলেন, ‘অতীতের সকল ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ব্যবসাবান্ধব বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসুর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদ, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) তপন কান্তি ঘোষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 2 =