জেল কোড ভঙ্গ করছে সরকার : বিএনপি

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া কারাগারে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না জানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ‘জেল কোড ভঙ্গের’ অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।

শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে গণমাধ্যমের কাছে এই অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীল বলেন, ‘জেল কোডের মধ্যে খুব পরিষ্কার করে বলা আছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেত্রী, তাদের সঙ্গে কোনো অনুমতির দরকার নেই। অর্থাৎ জেল কোডেই বলা হচ্ছে, তারা ডিভিশন পাবে। কিন্তু তাকে (খালেদা জিয়া) এখন পর্যন্ত ডিভিশন দেওয়া হয়নি।’

‘আমরা অবিলম্বে তাকে ডিভিশন দিয়ে তার যথাযথ মর্যাদার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এর জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে- নিয়ম এবং জেল কোডকে ভঙ্গ করার জন্য।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাধারণ কয়েদির মতো রাখা হয়েছে বলেও এ সময় অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘পাঁচজন সিনিয়র আইনজীবী কারাগারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ সলিটারি কনফাইনমেন্টে রাখা হয়েছে, অ্যাবানডেন্ট (পরিত্যক্ত) যে কেন্দ্রীয় কারাগার ছিল যেখানে কেউ বাস করে না এবং ঘর-বাড়ি স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যাচ্ছে, সেই কারাগারে সম্পূর্ণ একা প্রিজনার হিসেবে রাখা হয়েছে।’

সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তিনি তো ৭৩ বছরের একজন বয়স্ক মানুষ। তার যে সার্বক্ষণিক পরিচারিকা জেল কোডের মধ্যে রয়েছে সে সার্বক্ষণিক পরিচারিকাকেও তার সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়নি। এই বিষয়গুলো আমরা মনে করি একেবারে অমানবিক।’

এর আগে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করেন দলটির শীর্ষ নেতারা। দুর্নীতি মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে কৌশল গ্রহণের জন্য এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন তারা।

সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্যে খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছে বলে দাবি করেন দলের মির্জা ফখরুল।

বিএনপি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ জানিয়ে দলটির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে সমগ্র দেশ আজকে ধিক্কার দিয়েছে। প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা দেশবাসীকে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সভায় আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যিনি এখন লন্ডন থেকে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান সাহেব তার বক্তব্য টেলিফোনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।’

‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য, সকল দলের অংশগ্রহণের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাওয়ার সময়ই যে কথা বলে গিয়েছেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে গণতন্ত্রের জন্য, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন।’

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর মোহাম্মাদ নাসির, মো. শাহজাহান, মেজর জেনারেল( অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আবুল খায়ের ভূইয়া, ইঞ্জিনিয়ার আ ন হ আখতার হোসেইন, জয়নাল আবেদিন ফারুক, জয়নাল আবেদীন ভি পি, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুস সালাম, শাহজাদা মিয়া, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারন-অর-রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ত্র্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − ten =