বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধে উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন

বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ হতে সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটরিয়ামে ডিসিসিআই এবং বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট যৌথভাবে আয়োজিত বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব শীর্ষক সেমিনার এ কথা জানান বক্তারা।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু বলেন, সম্প্রতি শুরু হওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তা বেশি দিন স্থায়ী হবে না। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চীনের রপ্তানিকৃত যেসব পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করেছে তার পরিমাণ প্রায় ২৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমেরিকার দুটো চেম্বার কর্তৃক ইতিমধ্যে চীনের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের বিনিয়োগকে পুনরায় আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নয় এবং এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানসমূহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া প্রভৃতি দেশকে প্রধান্য দিয়ে থাকবে।

এ সময় তিনি চীনের সানসেট ইন্ডাস্ট্রিকে স্থানান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে উপযোগী গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বেসরকারি খাতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতিদ্রুত এগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব হলে, আমরা আরো বেশি হারে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সম্ভব হবে। এলডিসি হতে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার বৃটেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যতানামা একজন অধ্যাপককে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন করা হলে আমাদের দেশের শিল্প-কারখানার কাঁচামালা আমদানি নির্ভর হওয়ার কারণে পুরো ব্যবসায়িক কার্যক্রমে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ থেকে আমাদের উত্তরণের জন্য উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরো বেশি হারো মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে। এ বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশের বেকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি এর সম্ভাবনা আরো বাড়বে।

রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য বলেন, মূলত চীনের সাথে বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চীনের অ্যালোমিনিয়াম ও স্টল পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করে। যার ফলে দুটো বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে সৃষ্ট বাণিজ্য যুদ্ধ হতে বাংলাদেশকে সুবিধা নিতে হলে সরকার-বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ৮০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলোর চীনে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্তের পেছনে তৎকালীন সময়ে চীনের অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবন প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছিল এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

এর আগে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসেব অনুযায়ী বাণিজ্য যুদ্ধের আর্থিক প্রভাবের পরিমাণ প্রায় ৪৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এটি বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শাতাংশ। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, লাওস এবং শ্রীলংকা হতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর চীন শুল্কারোপ করেছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, চীনের সানসেট ইন্ডাস্ট্রিকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উৎকৃষ্ট স্থান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এজন্য অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং পরিকল্পিত বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − 11 =