আমরা নির্বাচন বয়কট করব না : কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একবার নির্বাচন বয়কট করে খেসারত দিতে হয়েছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমরা বয়কট করব না।

শনিবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত আইনজীবীদের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন নিয়ে ওরা (সরকার) যতই দশ নম্বরি করুক, আমরা নির্বাচন বয়কট করব না। হাজারে হাজারে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে বোঝাতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে কামাল হোসেন বলেন, ‘এটা খুবই ন্যায়সঙ্গত। দেশের একটি বিরোধীদলের প্রধান ছিলেন তিনি। যেহেতু একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এতদিন পরে হতে যাচ্ছে তাতে একটা দলের নেত্রী সরকারের প্রধান থাকবেন আর আরেক দলের নেত্রীকে সেই সেন্ট্রাল জেলে রেখে অপমান করা হবে এটা একদমই মেনে নেওয়া যায় না। ওনাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করা দরকার। যাতে উনি তার নেতাদের নিয়ে দেশের মানুষের কাছে গিয়ে নির্বাচনে ভোট চাইতে পারেন।

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, সবার মতামত উপেক্ষা করে কোটি কোটি টাকা ব্যবহার করে কেন ইভিএম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এই সরকারের বড় ঘাটতি হলো দেশ ১৬ কোটি মানুষের কিন্তু এরা পাচঁজন মিলে যা মনে করেন তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। জাতীয় নীতির তোয়াক্কা না করে তারা এসব করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিচারপতি এসকে সিনহার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সাতজন বিচারপতি মিলে একটা রায় দিলেন কিন্তু কথা শুনতে হলো সিনহা সাহেবকে। এত লজ্জা আমি জীবনে পাইনি। যেদিন দেখেছি কোনো একজন মন্ত্রী হবে কি না জানিনা, যিনি এসকে সিনহাকে বলেছিলেন তোকে কে নিয়োগ দিয়েছিল।’

‘তোকে কে নিয়োগ দিয়েছে’ একজন প্রধান বিচারপতিকে কেউ এভাবে বলতে পারে না। সে যেই হোক। যে এসব কথা বলেছে তার আদালত অবমাননা এখনো হতে পারে বলেও তিনি জানান। যে ব্যক্তি এসব কথা বলেছে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করতে পরামর্শ দেন তিনি। এসব বিষয়ে হালকাভাবে নেওয়া উচিত না। আজ হোক কাল হোক এসব বলে কেউ পার পাবে না।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি, গত পাঁচ বছর দেশ যেভাবে শাসিত হয়েছে এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, আমি জানি না।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জ করে কোর্টে এসেছিলেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে কোর্ট আমাকে ডেকেছিল। কোর্ট জিজ্ঞেস করেছিলেন আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন, আমি বললাম, মূল্যায়ন করলে তো দুই মিনিটেই বলা যায় যে এটা কোনো নির্বাচনই ছিল না। আরেকটা নির্বাচন করতে হবে। সরকার তো বলছে দ্রুত আরেকটা নির্বাচন করবে। সরকারের পক্ষের লোকই সেখানে বলেছে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটা সরকার করে নেওয়া হয়েছে, আমরা সকলের সঙ্গে আলোচনা করছি যেন, দ্রুত একটা নির্বাচন করা যায়। আমিও স্বাভাবিকভাবেই মনে করেছি সরকার যখন কোর্ট দাঁড়িয়ে এরকম একটা কথা বলছে তখন এটা হবে। তখন আমি কোর্টকে বললাম আমার কিছু বলতে হবে না, তারা তো নিজেই বলছে যে, একটি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য করেছে, তারাও এটাকে ডিফাইন করতে পারছে না, বলছে দ্রুত আরেকটা নির্বাচন দিবে। দ্রুত মানে কি পাঁচ বছর? এ সময় মহাজোট সরকারকে ভাওতাবাজির সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাওতাবাজির জন্য সরকারকে গোল্ড মেডেল দেওয়া উচিত।

গণফোরামের সভাপতি বলেন, সংবিধানের মৌলিক কথা হচ্ছে, জনগণ ক্ষমতার মালিক। কিন্তু জনগণ যদি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে তাদের ক্ষমতা না প্রয়োগ করাতে পারে তাহলে স্বাধীনতার ওপরে আঘাত দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন থাকে না। এই দেশটাকে পরাধীন দেশ বানাতে দিতে পারি না। শহীদের রক্তের সাথে আমরা বেঈমানি করতে পারি না।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘সরকার সংবিধানের কথা বললে আমার হাসি পায়। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকাই অসাংবিধানিক। দিনে-রাতে নিজেরা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। আর আমাদের সংবিধান দেখাচ্ছে।’

সংবিধানের প্রথম লাইনে সংবিধান লেখা আছে। এরপরে আর কোনো লাইন তারা যে পড়ে আমার তা মনে হয় না। পড়লে এভাবে সংবিধান সংবিধান সংবিধান করতো না। পড়লে দেখবে যে, তোমরা একেকটা বিধান লঙ্ঘন করছো।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক আহবায়ক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিতত্বে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, গণফোরামের মহাসচিব সুব্রত চৌধুরী, সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + seventeen =