৫০ লাখ করদাতা চায় এনবিআর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) করদাতার সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করতে চায় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইয়া। একই সঙ্গে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ৩৫ লাখে উত্তীর্ণ করতে চান তিনি।

রোববার বিকেলে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আয়কর মেলা-২০১৮ উপলক্ষে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বর্তমানে ২০ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন। এ সংখ্যা আগামী দুই বছরে ৩৫ লাখে নিতে চাই। আর ইটিআইএন নিয়েছেন ৩৫ লাখ করদাতা। এটা আগামী দুই বছরে ৫০ লাখে উন্নীত করতে চাই।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, সার্টিফিকেট লাগবে না। নির্বাচন কমিশন যে ঘোষণা দিয়েছে, এরপর আমার আর কিছু বলার নেই। তবে এ নির্বাচনের পর কোনো করখেলাপী যাতে প্রার্থী না হতে পারেন সে বিষয়ে এনবিআর পদক্ষেপ নিবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আইন করবে।

মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যেসব জনপ্রতিনিধি (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ) ইতোমধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন তারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া, করদাতা বাড়াতে সিটি করপোরেশনগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা চলছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি করনেট বাড়াতে কাজ করছে এনবিআর। এজন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলাসহ সব কর অফিসের জন্য টার্গেট নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। তাদেরকে নতুন করদাতা চিহ্নিত করতে টার্গেট দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের থেকেই নতুন করদাতা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।

‘উন্নয়ন ও উত্তরণ, আয়করের অর্জন’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে এ বছর আয়কর মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘আয়কর প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’। এ বছর ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহর, ৬৪ জেলা শহর ও ১০২টি উপজেলায় আয়কর মেলা হবে।

আয়কর মেলা উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার সর্বোচ্চ ও দীর্ঘ সময় ধরে কর দেওয়া ব্যক্তিদের পুরস্কার দেওয়া হবে। স্বপ্রণোদিতভাবে কর প্রদানে আগ্রহী ও অনুপ্রাণিত করতে ৩টি ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড এবং ১৪১ জন করদাতাকে সর্বোচ্চ ও দীর্ঘমেয়াদী কর প্রদানকারীকে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হবে। হোটেল সোনারগাঁওয়ে ওই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি থাকবেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

আগামী ১৩ নভেম্বর সকালে ঢাকার বেইলী রোডে অফিসার্স ক্লাবে আয়কর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

আয়কর মেলা উপলক্ষে রেডিও, টেলিভিশন, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ এবং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বিশেষ বাণী দিয়েছেন। কর প্রদানে উৎসাহ ও সচেতনা বৃদ্ধিতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। দেওয়া হবে করবিষয়ক এসএমএস।

আয়কর মেলার কর্মসূচি
১৩ থেকে ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে ৭ দিন, জেলা শহরগুলোতে ৪ দিন এবং ৩২টি উপজেলায় ২ দিন এবং ৭০টি উপজেলায় ১ দিন ভ্রাম্যমাণ আয়কর মেলা হবে। আয়কর মেলাকে সাজানো হয়েছে চিরন্তনী মেলার সাজে। এতে বিদ্যমান করদাতা, সম্ভাব্য করদাতা ও ভবিষ্যতের করদাতাদের জন্য ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন, আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণে সহায়তা, রিটার্ন গ্রহণ, কর পরিশোধ, কর শিক্ষা ইত্যাদি নানা আয়োজন থাকবে।

আয়কর মেলায় যেসব সেবা পাওয়া যাবে
করদাতাগণ আয়কর মেলায় তাদের ২০১৮-২০১৯ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

সহজে রিটার্ন দাখিলের জন্য ঢাকার আয়কর মেলায় প্রতিটি কর অঞ্চলের জন্য আলাদা বুথ থাকবে।

মেলার রেজিস্ট্রেশন বুথে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান সাপেক্ষে নতুন করদাতাগণ রেজিস্ট্রেশন ও বর্তমান (পুরাতন টিআইএনধারী) করদাতাগণ রি-রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

মেলায় এনবিআর ই-পেমেন্ট ওয়েবসাইট ব্যবহার করে করদাতাগণ অনলাইনে প্রদেয় আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন।

মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য মেলায় পৃথক বুথ থাকবে।

মেলায় স্থাপিত সোনালী ও জনতা ব্যাংকের বুথে করদাতাগণ আয়কর জমা দিতে পারবেন।

মেলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন শুল্ক, ভ্যাট, সঞ্চয় অধিদপ্তর, বিসিএস (কর) একাডেমি, কাস্টমস একাডেমি এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পৃথক বুথ থাকবে, যেখান থেকে মেলায় আগত করদাতাগণ শুল্ক, ভ্যাট, সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যেকোনো তথ্য জানতে পারবেন।

করদাতাগণকে মেলা প্রাঙ্গণে আয়কর রিটার্ন, ই-টিআইএন আবেদন ফরম এবং চালান ফরম সরবরাহ করা হবে।

করদাতাদের সুবিধার্থে মেলায় হেল্প ডেস্ক, তথ্যকেন্দ্র ও আয়কর অধিক্ষেত্র সংক্রান্ত বুথ থাকবে। এসব বুথের মাধ্যমে করদাতাগণকে আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ, চালান ও পে-অর্ডার প্রস্তুতসহ আয়কর আইন বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হবে।

করদাতাদের সুবিধার জন্য মেলা প্রাঙ্গণে ফটোকপির ব্যবস্থা থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 17 =