‘অনির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই না’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা অনির্বাচিত সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন চাই না। বরং নির্বাচিত সরকারের অধীনেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’

শনিবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির মহানগর উত্তর কমিটি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র দিবস’ এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারই নির্বাচনের সময় সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। তাদের আমলে জাতীয় পার্টি লেভেল প্লেইং ফিল্ড পায়নি। বরং আমাদের ওপর অবিচার করেছে। তাই আমরা কোনো তত্ত্বাবধায়ক কিংবা অনির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই না।’

তিনি আরো বলেন, আমরা জোটের ব্যানারে নির্বাচন করব। আমাদের ৩০০ আসনে প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বিএনপি নির্বাচনে এলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। তখন হয়তো কোনো দলই এককভাবে নির্বাচন করবে না। জাতীয় পার্টি মহাজোটে থেকে নির্বাচনে অংশ নেবে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৮২ সালে বাধ্য হয়েই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতা গ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি ক্ষমতায় থেকে ৯ বছর দেশের মানুষকে সুশাসন, গণতন্ত্র এবং নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। কর্মসংস্থান ও মানুষের মুখে হাসি ছিল। কিন্তু ৯০ সালের পর থেকে মানুষ আর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে পায়নি। এরশাদের নেতৃত্বে আবারো সরকার গঠন হলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর দক্ষিণ কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মুজিবুল হক চুন্নু, মশিউর রহমান রাঙা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু প্রমুখ।

জাপার মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে সকল দল অংশ নিলেও একটি দল অংশ নেয়নি। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচনও বর্জন করেছিল। এবারো নির্বাচনে আসবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এরশাদের শাসনামলকে বিতর্কিত করতেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নূর হোসেনকে হত্যা করা হয়েছিল। নূর হোসেনকে নিয়ে দুটি দল অনেক দরদ দেখায়। কিন্তু ২৭ বছর সরকার পরিচালনা করেও তারা নূর হোসেন হত্যা বিচার করেনি।’

জাপা সরকারে গেলে নূর হোসেনের প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানান হাওলাদার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান সেন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আশরাফ উদ-দ্দৌলা, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ এমপি, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, এম এ তালহা, জহিরুল ইসলাম জহির, আলমগীর শিকদার লোটন, বাহাউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন এমপি, আমানত হোসেন, সরদার শাহজাহান, যুগ্ম মহাসচিব শফিকুল ইসলাম মধু, মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, মো. নোমান মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহমেদ সেলিম, মো. ইসাহাক ভূইয়া, ফখরুল আহসান শাহাজাদা, মোস্তাকুর রহমান নাঈম, মো. হেলাল উদ্দিন, মো. নাসির উদ্দিন, ইলিয়াস উদ্দিন এমপি, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মো. বেলাল হোসেন, মো. আনিসুর রহমান খোকন, এম এ রাজ্জাক খান, কাজী আবুল খায়ের, জামাল রানা, গোলাম মোস্তফা, আবু সাঈদ স্বপন, ইঞ্জিনিয়ার এম এ সাত্তার, ইফতেখার আহসান হাসান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + 14 =