বল এখন সরকারের কোর্টে : কামাল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, জানিয়ে জোটটির অন্যতম প্রধান নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এখন সরকার কী করে সেদিকে তাকিয়ে আছেন তারা।

অন্যদিকে, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দাবি আদায়ে পিছপা হবেন না তারা। আন্দোলনের কর্মসূচি চলবে।

বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনের আগে ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠকে বসেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

সংলাপের মাধ্যমে সমাধান না এলে কোনো কর্মসূচির দিকে যাবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবিগুলো বলেছি। আমরা সব সময় শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। কিন্তু আমরা মনে করি, বল এখন সরকারের কোর্টে।’

এ সময় ড. কামাল হোসেন একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের দেন। এতে নির্বাচন সামনে রেখে ৭ দফা দাবির ভিত্তিতে ১ ও ৭ নভেম্বর সংলাপ আহ্বান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

কামাল হোসেন বলেন, ‘আজকের সংলাপে আমরা ৭ দফা দাবি নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছি। ইতোমধ্যে সারা দেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো গায়েবি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের হবে না এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের আর গ্রেপ্তার করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।’

এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি রয়েছে, সেটি অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায়ে আন্দোলন থেকে পিছপা হব না।’

তিনি বলেন, ‘সংলাপে আমরা আলোচনা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছি, তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। গায়েবি মামলা আর হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ দফার মধ্যে প্রথম দফাই ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন। দ্বিতীয় দফায় ছিল নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা প্রস্তাব করেছি, সীমিত পরিসরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে এই আলোচনার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। প্রয়োজনে আবারও তফসিল ঘোষণা করা যাবে। তারা বলেছেন, তফসিল রিসিডিউল করা যেতে পারে।

এ সময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে মানা করেছি। তারপরও যদি করে, তাহলে কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করব।

সংলাপের পরে আশার আলো দেখছেন কি না? এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ আশার আলো দেখলেই আশার আলো দেখা হবে।

বৃহস্পতিবার রোডমার্চ করে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা রাজশাহী যাবেন এবং শুক্রবার জনসভা করবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল।

সাত দফার মধ্যে কয়টা দাবি সরকার মেনেছে? এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা সবগুলো নিয়েই ভাবছি।

এর আগে বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১১ জন এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের ১১ জন অংশ নেন। ১৪ দলের প্রতিনিধিদলে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, স ম রেজাউল করিম, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন সংলাপে অংশ নেন।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণফোরামের মহাসচিব মোস্তফা মহসিন মন্টু, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + 11 =