যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশজুড়ে ভোট দিতে শুরু করেছেন সে দেশের নাগরিকরা।

এ ভোটের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এর সব কয়টি (৪৩৫) আসনের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন ভোটাররা। এছাড়া, উচ্চকক্ষ অর্থাৎ সিনেটের একশ’ আসনের মধ্যে ভোট গ্রহণ করা হবে ৩৫টির।

আর ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩৬টির গভর্নর নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঞ্চলের গভর্নর নির্বাচন করা হবে। এর বাইরে অনেক নগরীর মেয়র এবং স্থানীয় কর্মকর্তাও নির্বাচিত হবেন এ ভোটের মাধ্যমে।

বিবিসি জানিয়েছে, পূবাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে প্রথম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সর্ব প্রথম নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, ভার্জিনিয়া এবং মেইনের ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় সর্বপ্রথম ইন্ডিয়ানা রাজ্যের বেশিরভাগ অংশ এবং কেন্টাকির পূর্ব অংশের ভোট গ্রহণ শেষ হবে। আর সর্বশেষ আলাস্কা রাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কথা এর সাত ঘণ্টা পর।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময় ভোট গ্রহণ শেষ হবে। এ কারণে পূর্ণ ফল পেতে সময় লাগবে। ভোটের ফল আসতে শুরু করবে রাত ১১টা থেকে।

মধ্যবর্তী এ নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি তার ভবিষ্যতের পূর্বাভাস পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ জনমত জরিপে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের আভাস পাওয়া গেছে। সিএনএন’র সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কিছুটা এগিয়ে আছে। জরিপে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষে ৫৫ শতাংশ এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

সিএনএন জানায়, ডেমোক্র্যাটদের জরিপে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে নারী ভোটার। জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশ নারী ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। আর রিপাবলিকানদের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর পরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। আর প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাঝামাঝিতে অর্থাৎ, দু’বছরের মাথায় হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে জনগণ প্রেসিডেন্টকে নিয়ে তাদের সন্তোষ বা অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ পায়। আর তাই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে মানুষ কি ভাবছে এবং তার আবারো ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কতটুকু তা এ নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকে। তবে এবার রেকর্ড পরিমাণ ভোটার ভোট দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটে কংগ্রেসের দুই কক্ষের মধ্যে একটি কক্ষ রিপাবলিকান আর অপরটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেলে যে কোনও বিল পাস করাতে বেশ বেগ পেতে হবে ট্রাম্পকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + seventeen =