মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা : ২ জনের ফাঁসি

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নরসিংদীর শিবপুর থানাধীন বিরাজনগরের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে হত্যা মামলায় সৎ ভাইসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মো. মনির কামাল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আব্দুল হাইয়ের সৎভাই জাকির হোসেন এবং আমজাদ হোসেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আব্দুল মান্নান নামে আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. শাহীন, জাহাঙ্গীর আলম ও রফিক নামে তিনজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। নিহতের ছোট ভাই আব্দুল হক মিয়া বলেন, ওই ঘটনার মাস্টার মাইন্ড শাহীন। কিন্তু সে খালাস পেয়েছে। একটি অস্ত্র মামলায় শাহীনের ১০ বছরের সাজা হয়েছে। আর এ মামলায় সে খালাস পেল। আমার ভাইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে শিবপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্র উদ্ধার করে । এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভয়-ভীতি দিয়ে আসছিল। তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ রাত ৯টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বিরাজনগর বাজার থেকে নিজ এলাকার শিশু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আব্দুল হাইয়ের সৎ ভাই জাকির হোসেন আমজাদ, মান্নান , শাহীন, জাহাঙ্গীর ও রফিকদের নিয়ে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। শিশু মিয়া ও ভিকটিমের চিৎকারে লোকজন আসতে থাকলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর আব্দুল হাইকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি তিন আসামির নাম বলেন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।

ওই ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে রিমন মিয়া শিবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামি আমজাদকে গ্রেপ্তার করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এদিকে মামলাটি তদন্ত করে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলাম। ২৮ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে আদালত চার্জশিটভুক্ত ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মাহবুবুর রহমান আর তাকে সহযোগিতা করেন মেহেদী হাসান ও আবু হানিফ। আসামিপক্ষে ছিলেন গোলাম মোস্তফা খান ও আফানুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 7 =