নদীর নাব্যতা ফেরাতে ৪৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প

দেশের প্রধান প্রধান নৌরুটে নদীর নাব্যতা উন্নয়নে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ‘৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি আগামীকাল (মঙ্গলবার) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, একনেক সভায় ২১টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৭ হাজার ৩১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়িয়ে নদীগুলোর ৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথে নাব্য উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ নৌপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে দেশে ছোট-বড় মিলে ৪০০ নদী রয়েছে, যার মধ্যে ৫৭টি আন্তঃদেশীয়। নদীগুলো বছরে প্রায় ১১০ কোটি টন পলি জমা করে। এর ফলে পলির স্তর পড়ে স্রোতের গতি কমে চর সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নদী ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ পর্যাপ্ত খনন যন্ত্রপাতির অভাবে নদীগুলো ঠিকমতো খননও করা সম্ভব হচ্ছে না। দিন দিন গভীরতা কমতে কমতে নাব্যতা হারিয়ে নৌরুটগুলোয় জলযান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত ও অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরী একনেকের সারসংক্ষেপে বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ক্রমবর্ধমান ড্রেজিং চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়বে। আর নদীগুলো নাব্যতা ফিরে পেলে নৌপথে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

এজন্য অক্টোবর ২০১৮ থেকে জুন ২০১৮ সালে এটি বাস্তবায়নের লক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো, ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহ। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশসহ ২৮ ইঞ্চি ২টি, ২৪ ইঞ্চি ৮টি, ২০ ইঞ্চি ৮টি, ১৮ ইঞ্চি ৯টি ও ১২ ইঞ্চি ২টি সাকশন ড্রেজার, ২টি ট্রেইলিং সাকশন হোপার ড্রেজার, ২টি ওয়াটার ইনজেকশন/জেটিং ড্রেজার এবং ২টি সেলফ প্রোপেল্ড পন্টুন মউনটেড গ্রাব ড্রেজার। একই সঙ্গে ৩৫টি কাটার সাকশন ড্রেজার ক্রেনবোট, অফিসার ও ক্রু হাউজবোট ৩৫টি, পাইপ কেরিং ডার্ম্ব বার্জ ১৫টি, বোলার্ড পুলের টাগবোট ১৭টি সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, ৫টি করে ওয়েল ও ওয়াটার বার্জ, ১০টি সার্ভে ওয়ার্কবোট, ২টি ইন্সপেকশন ভেসেল, ১টি কেবিন ক্রুজার সংগ্রহ, ৮৬ হাজার বর্গমিটার অফিসার ও স্টাফ কোয়ার্টার এবং ডরমিটরি নির্মাণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + nine =