নির্বাচন হ‌বে কি হ‌বে না জা‌নি না : এরশাদ

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন ‌নি‌য়ে সংশয় প্রকাশ ক‌রে‌ছেন স‌ম্মি‌লিত জাতীয় জো‌টের চেয়ারম্যান হু‌সেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তি‌নি ব‌লেছেন, আগামী নির্বাচন নি‌য়ে সংশয় আ‌ছে। নির্বাচন হ‌বে কি হ‌বে না জা‌নি না। এক‌টি দল সাত দফা দি‌য়ে‌ছে, সেটা সং‌বিধান অনুযায়ী মানা সম্ভব না।

শ‌নিবার দুপু‌রে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যা‌নে স‌ম্মি‌লিত জাতীয় জো‌টের মহাসমা‌বে‌শে সভাপ‌তির বক্ত‌ব্যে এ কথা বলেন তিনি।

এরশাদ ব‌লেন, ‘সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দ‌ল নি‌য়ে ‌নির্বাচনকালীন সরকার গঠন কর‌তে হ‌বে। নির্বাচনের জন্য অনুকূল প‌রি‌বেশ সৃ‌ষ্টি‌ কর‌তে হ‌বে। আমরা সুষ্ঠ নির্বাচন চাই।

জো‌টের ব্যানা‌রে তিনশ আস‌নে নির্বাচ‌নের ঘোষণা দিয়ে এরশাদ ব‌লেন, ‘দেশবাসী‌র কা‌ছে বার্তা পৌঁছা‌তে চাই, আমরা স‌ম্মি‌লিত জাতীয় জো‌টের ব্যানা‌রে তিনশ আস‌নে নির্বাচন করব। ত‌বে প‌রিবর্তন হ‌তে পা‌রে। এজন্য আমা‌দের প্রস্তুত থাক‌তে হ‌বে।

যারা নির্বাচন করতে চাও এগিয়ে আস, সুযোগ কাজে লাগাও। এ মাসের মধ্যে পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করা হবে। তৃণমূলের মতামত নিয়ে যাছাই বাছাই শেষে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে- ঘোষণা দেন এরশাদ।

নিজেকে বয়জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক উল্লেখ করে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, দেশে আমিই সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পেীঁছেছি। আগামী নির্বাচনই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আমি এই বয়সে আবারো দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চাই। আমি আমাকে দেশ ও জাতির জন্য উৎসর্গ করলাম।’

জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জোটের উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, খুন গুম থেকে মুক্তি চায়। তারা সম্মিলিত জাতীয় জোটকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। নির্বাচনের জন্য আমরাও প্রস্তুত। আজ এখান থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। দেশবাসীর ভোটে আমরা ক্ষমতায় যাব। আর ক্ষমতায় গিয়ে আমরা মানুষকে মুক্তি দেব। মানুষের মুখে হাসি ফোটাবো। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত দেশ গড়ব।’

এরশাদ বলেন, ‘আমরা প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে চাই। নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন করতে চাই। পুর্ণাঙ্গ উপজেলা চাই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করতে চাই। কারণ, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে অন্ধকারে নিয়ে যাচ্ছে, এ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে চাই।’

লোকসমাগমে আবেগ আপ্লুত হয়ে দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রশংসা করেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘আজকে আমার মন ভরে গেছে। যা আশা করি নাই তার চাইতে বেশি লোক সমাগম হয়েছে। এজন্য মহাসচিব (হাওলাদার) রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এজন্য তোমাদের (কর্মী সমর্থকদের) পক্ষ থেকে আমি মহাসচিবকে অভিনন্দন জানাই।’

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকের মহাসমাবেশ প্রমাণ করেছে জাতীয় পার্টি জেগে উঠেছে। জাতীয় পার্টি জোট আগামীতে ক্ষমতায় যেতে প্রস্তুত।’ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়াও চান এরশাদ।

জাপার দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মারামারি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও খেলাফত মজলিসের আচমকা ভাঙচুরের মত বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বেলা পৌ‌নে ১১টায় প‌বিত্র কোরআন তেলাওয়া‌তের পর আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে শুরু হ‌য় জোটের এই মহাসমা‌বেশ। জো‌টের চেয়ারম্যান হু‌সেইন মুহম্মদ এরশাদ, সিনিয়র কো চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ১১টা ২৭ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মঞ্চে পৌঁছালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা শ্লোগানে শ্লোগানে তাদের স্বাগত জানান। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঠ নেতাকর্মী সমর্থকে ভরে যায়। সারাদেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পায় জাপার লাঙল ও ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতির বিশালাকার প্রতীক ও ব্যানার পোস্টার। বাদ্য বাজনা সহকারে নেতাকর্মীদের মিছিলে মুখরিত হয়ে উঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বেলা ১১টার পর থেকে নেতাকর্মীরা মাঠে জায়গা না পেয়ে মাঠের বাইরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটউশন হলের বাইরে রাস্তায় শাহবাগ থেকে মৎসভবন, প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তায় অবস্থান নেন। এসময় প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। পল্টন মোড় থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় মানুষের চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ ছাড়াও মহাসমা‌বে‌শে বক্তব্য রা‌খেন জাপার কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জিএম কা‌দের, মহাস‌চিব এ‌বিএম রুহুল আ‌মিন হাওলাদার এম‌পি, ইসলামী ফ্র‌ন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, ফখরুল ইমাম এমপি, এসএম ফয়সল চিশতী, ইসলামী ফ্রন্টের আল্লামা আবু সুফিয়ান কাদেরি, বিএনএ’র চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী মনি, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, ‘দেশে যে অবস্থা, কর্মসংস্থান নেই, মাদকে সয়লাব, সন্ত্রাস, খুন গুম, মানুষের নিরাপত্তা নেই। এ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে হলে আমাদের ক্ষমতায় আসতে হবে ‘

তিনি বলেন, ‘জনগণ চায়, জাতীয় পার্টিকে আরেকবার সুযোগ দিতে, আমাদের সেই সুযোগ নিতে হবে। এবার যে কোন মূল্যে আমাদের ক্ষমতায় যেতে হবে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যা যা করার দরকার এবার তাই করতে হবে। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই। তোমরা কি বলো, ক্ষমতায় আমরা এবার যাবই যাবো।’

‘জাতীয় পার্টির সুশাসন, উন্নয়ন নিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে, আমাদের কথা তুলে ধরতে হবে। দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে হবে, না হলে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না,’ বলেন বিরোধী নেতা। তিনি এসময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদকে স্মরণ করেন।

পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘বিগত ২৭ বছরের বহু উত্তাল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে, অত্যাচার নীপিড়নের মধ্য দিয়েও জাতীয় পার্টি এখনো ঠিকে আছে। এর কারণ এরশাদ শাসনামল ছিলো উন্নয়নের স্বর্ণযুগ। সেসময় সন্ত্রাস, খুন-গুম ও জঙ্গিবাদ ছিল না। মানুষের মাঝে উপলদ্ধি হয়েছে, দেশের উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে এরশাদের বিকল্প নেই।’

ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশ ও জাতি আজ মহাসঙ্কটে। এই সঙ্কট থেকে বাঁচতে হলে দেশের পরীক্ষিত রাজনীতিক প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিকল্প নেই। তাই সুখী সমৃদ্ধশালী সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে এরশাদের সম্মিলিত জাতীয় জোটকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’

সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘এরশাদ ছাড়া এদেশে কোনো জোট হবে না। এরশাদের নেতৃত্বে যে জোট এ জোট গণমানুষের জোট, এ জোটই আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ামক শক্তি।’

জাপার ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হো‌সেন রাজু, নুরুল ইসলাম নুরু, উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আশরাফ সি‌দ্দিকী ও ইসলামী ফ্র‌ন্টের যুগ্ম মহাস‌চিব সওম আব্দুস সামাদের যৌথ প‌রিচালনায় মহাসমা‌বে‌শে উপ‌স্থিত ছি‌লেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ফারুক, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন, আল্লামা আবুল কাসেম নূরী, জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড‌ভো‌কেট কাজী ফিারোজ রশীদ এম‌পি, প্র‌তিমন্ত্রী মু‌জিবুল হক চুন্নু এম‌পি, অধ্যাপক দে‌লোয়ার হো‌সেন, সা‌হিদুর রহমান টেপা, প্র‌তিমন্ত্রী ম‌শিউর রহমান রাঙ্গা, অ্যাড‌ভো‌কেট শেখ সিরাজুল ইসলাম, আবুল কা‌সেম, এম এ সাত্তার, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, লিয়াকত হো‌সেন খোকা এম‌পি, সোলায়মান শেঠ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, গোলাম কিবরিয়া টিপু, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, সুনীল শুভরায়, মীর আবদুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন মিলন, মো. আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান, নাসরিন জাহান রতনা এমপি, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব এমএ মোমেন, এরশাদের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান, রিন্টু আনোয়ার, মেরিনা রহমান এমপি, সৈয়দ দিদার বখত, এ.কে.এম মোস্তাফিজুর রহমান, এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, সেলিম উদ্দিন এমপি, জাপা ভাইস চেয়ারম্যান এমএ তালহা, জিয়াউল হক মৃধা এমপি, মাহজাবিন মোর্শেদ এমপি, নুরুল ইসলাম মিলন এমপি, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপি, খন্দকার আব্দুস সালাম, এইচ এম এন শফিকুর রহমান, শামসুল আলম মাস্টার, জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফুর রহমান খান, আলমগীর সিকদার লোটন, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক মহসিন-উল-ইসলাম হাবুল, আমানত হোসেন আমানত, সরদার শাহজাহান, এমরান হোসেন মিয়া, শওকত চৌধুরী এমপি, মেহেরুন্নেছা খান হেনা, শাহানারা বেগম এমপি, মামুনুর রশীদ এমপি, আমির হোসেন ভুইয়া এমপি, আকরাম আলী এমপি, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, আলমগীর জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, ইয়াহইয়া চৌধুরী এমপি, সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি এমপি, দিদারুল কবির দিদার, শফিকুল ইসলাম শফিক, জহিরুল আলম রুবেল, মো. নোমান মিয়া, বেলাল হোসেন, মহিলা পার্টির সেক্রেটারি অনন্যা হোসেন মৌসুমী, শ্রমিক পার্টির সভাপতি আশরাফুজ্জামান, ওলামা পার্টির কারী হাবিবুল্লাহ বেলালী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − 2 =