নির্বাচনকে সামনে রেখে সক্রিয় জাল নোট চক্র

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ী চক্র। তারা ইতোমধ্যে রাজধানীর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা, থানা ও গ্রামে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছে। এমন চক্রের সন্ধান পাওয়ার পর গোয়েন্দারা নড়েচড়ে বসেছে।

১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তুরাগ থানার বাউনিয়া বাদালদী রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় জাল নোট চক্রের প্রধান আবুল হোসেন ওরফে ইমন, সহযোগী শেখ সুমন, ছগির হোসেন ওরফে শাহীন, ইকবাল হোসেন, তৌকীর আহম্মেদ ওরফে সুজন ও স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা। ৫১ লাখ জাল নোটের সঙ্গে নোট তৈরির প্রিন্টার, ফয়েল পেপার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ডিবির (উত্তর) উপ-কমিশনার মশিউর রহমান খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘জাল নোটের শীর্ষ পর্যায়ের বেশিরভাগ কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের অনেকেই জামিনে বের হয়ে একই কাজ করছে। তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে (ঈদ/দুর্গাপূজা) সামনে রেখে তৎপরতা বৃদ্ধি করলেও এবার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৎপর হয়ে উঠেছে।’

গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তত ১০ কোটি জাল নোট ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে এসব চক্রের সদস্যদের। তারা প্রতি সপ্তাহে ৪০ লাখ করে মাসে কমপক্ষে ২ কোটি জাল নোট তৈরি করছে। এই নোট সারা দেশের এজেন্টদের কাছে পাঠানোরও পরিকল্পনা আছে। ঢাকা ছাড়াও খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, ফরিদপুর, বাঘেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের সব জেলা শহরে তারা প্রতিনিধি নিয়োগ করে রেখেছে। প্রতিনিধিরা তাদের কাছ থেকে অগ্রিম নগদ টাকায় (আসল টাকা) জাল নোট কিনে রেখেছে। তারা আবার মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের কর্মী হওয়ার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের সময় শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হবে, এর সুযোগ নেবে তারা। এজন্য সারা দেশে ১০টি চক্র সক্রিয় রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ইমন গোয়েন্দাদের কাছে বলেছে, তারা ধরা পড়ার আগেই ১০ কোটি জাল নোট নির্বাচনী মাঠের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সুমন ও স্বপ্না জাল নোট তৈরির কারিগর। সরবরাহ করে ছগির। পল্টনের ব্যবসায়ী সুজন এ চক্রের কাছে জাল নোট তৈরির কাগজ ও কালি সরবরাহ করে। ২০১৩ সাল থেকে সে নিজেই জাল টাকা তৈরি শুরু করে। আর সুমন ওরফে বিহারি সুমন এর আগেও একবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাল নোট তৈরির হোতাদের ধরতে হবে। তাদের মোটিভ কী, এসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বের করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধীদের ঢালাওভাবে জামিন না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আনতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ পারে তাদের দৌরাত্ম রোধ করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + twelve =