বিশ্বে প্রথমবারের মতো ফাইভজি হলোগ্রাফিক কল

হুয়াওয়ে ও ভিম্পেলকম (বি-লাইন ব্র্যান্ড) বিশ্বে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ফাইভজি মোবাইল সংযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে হলোগ্রাফিক কল প্রদর্শন করেছে। সম্প্রতি মস্কো মিউজিয়ামের এক্সিবিশন হলে এই প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনে হলোগ্রাম ব্যবহার করে দু’জন কথা বলেন।

হলোগ্রাম হলো মিক্সড রিয়েলিটি গ্লাসের (এমআর) মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি প্রেরণ করা। এ পদ্ধতিতে যোগাযোগের জন্য উচ্চ গতিসম্পন্ন ব্যান্ডউইথ এবং লো ল্যাটেন্সির ইন্টারনেট কানেকশন প্রয়োজন হয়, যা শুধুমাত্র ফাইভজি নেটওয়ার্কেই পাওয়া যায়।

প্রযুক্তি প্রদর্শনের সময় কোম্পানি দুটি ২৬,৬০০-২৭,২০০ মেগাহার্জের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে, যা রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ বি-লাইন কোম্পানিকে অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিয়েছিল। ওই প্রদর্শনীতে হলোগ্রাফিক কল করতে হুয়াওয়ের বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ফাইভজি বেস স্টেশন gNodeB ব্যবহার করা হয়। হুয়াওয়ের Balong5G01 চিপসেটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এবং খুবই দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার উপযোগী ফাইভজি সিপিই ডিভাইসটি সাবস্ক্রাইবার টার্মিনাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেটাতে একটি আরএফ মডিউল (ওডিইউ) এবং ফাইভজি/ওয়াইফাই রাউটার সংযুক্ত আছে।

এছাড়াও হুয়াওয়ে ও বি-লাইন যৌথভাবে প্রাকটিক্যাল ফাইভজি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রদর্শন করে, যেটার হেলমেটে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের প্রচুর সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে দূরের জায়গাগুলোতে ভ্রমণের বিষয়ে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বাড়াতে সাহায্য করবে। উদাহারণস্বরূপ বলা যায়, এই প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো ক্রেতা বাড়িতে বসেই ভার্চুয়ালি স্মার্টফোনের দাম জানতে বা কিনতে একটি দোকানে যেতে পারেন।

রাশিয়ায় পিজেএসসি ভিম্পেলকম’র নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ভাসিল লাটসানিচ বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন নেটওয়ার্ক অপারেটরদের কিছুটা সুবিধা করে দিয়েছে। কারণ অপারেটররা এখন গ্রাহকদের উচ্চ গতিসম্পন্ন এবং উচ্চমানের মোবাইল যোগাযোগ সেবা দিতে পারছে। ফাইভ জি কিভাবে আরো সহজে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছে বি-লাইন। আমরা গ্রাহকদের দেখাতে চাই যে, কিভাবে এসব প্রযুক্তি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে এবং কিভাবে এগুলো অভিজ্ঞতাকে উন্নত করতে পারে।’

হুয়াওয়ে রাশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আইদেন উ বলেন, ‘যৌথভাবে রাশিয়ায় ফাইভজি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন করতে চলতি বছরের মে মাসে হুয়াওয়ে ও বি-লাইন একটি চুক্তি সই করে। আমাদের সহযোগিতা ছিল খুবই ফলপ্রসূ, ফলে আমরা আজ এই প্রযুক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হলাম। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত একটি নতুন ও মানসম্পন্ন যোগাযোগ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আমরা ভবিষ্যতেও এক সঙ্গে কাজ করবো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − seven =