‘জাতীয় ঐক্যর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবো’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমরা গণতন্ত্রকে মরতে দিতে পারি না। জাতীয় ঐক্যর মাধ্যমে এই সরকারের পরিবর্তন করে আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবো।

রোববার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, পরাজয়ের ভয়ে এই সরকারে থাকা দল প্রতিযোগিতার নির্বাচনের মুখোমুখি হতে চায় না।’

আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘বিচারপতি এসকে সিনহার বিতাড়ন জাতীকে একটি সঙ্কটে ফেলেছে। যে দেশে প্রধান বিচারপতি বিচার পায় না সে দেশে খালেদা-তারেক আমরা কেউ বিচার পাবোনা। তিনটি স্তম্ভের একটি প্রশাসন যেটা এখন পুলিশ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং রাষ্ট্রটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাকি দুটি স্তম্ভ (বিচার ও আইন) অসহায় হয়ে পড়েছে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আজ জেলে যেতে হতো না। এবং তারেক রহমানের ওপর এই ধরণের নির্যাতন হতো না। আমাদের লড়াই করতে হবে বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের জন্য।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি চার বিচারপতিকে ডেকে নিয়ে গেলেন, তাদেরকে শিখিয়ে দিলেন। তারা এসে রাষ্ট্রপতির কথা মত বললেন, তোমার সঙ্গে (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) আমরা বিচারে বসবো না। প্রাক্তন বিচারপতিকে বের করে দেওয়া হয়েছে আইনজীবীদের অনৈক্যের কারণে।’

গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থা চলছে। ১৬ কোটি মানুষ আজ অবরুদ্ধ। দেশের মানুষ আজ কারাগারে । একদিনের জন্য একটা ভোটের মহড়া হয়।’

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে তারেক রহমানের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে এখন কোন ন্যায় বিচাররের পরিবেশ নেই। বিচারকরাই যেখানে আতঙ্কিত সেখানে খালেদা তারেক বা বিরোধী দলের কারোই ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার নেই।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক খোকন বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এখন রিফিউজিতে পরিণত হয়েছে। আরেক বিচারপতি যিনি তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিলেন তিনি মালয়েশিয়া পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 1 =