গোপালগঞ্জে রেলপথ : উদ্বোধন এ মাসের যেকোনো দিন

গোপালগঞ্জে সাড়ে ১২’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪৪ কিলোমিটার রেলওয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষা। এ মাসের যেকোনো দিন এ রেললইনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইতোমধ্যে নতুন সম্প্রসারণ রেলপথে পরীক্ষামূলকভাবে রেল চালিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ রেললাইনটি চালু হলে জেলায় ঘটবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়ে কখন রেল চলাচল শুরু হবে, এ প্রতীক্ষায় রয়েছে গোপালগঞ্জবাসী।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে রেললাইন হবে আর সেই রেলে চড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করবে, এ যেন জেলাবাসীর কল্পনারও অতীত ছিল। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। ইতোমধ্যে সাড়ে ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে সদর উপজেলার গোবরা পর্যন্ত নতুনভাবে সম্প্রসারিত ৪৪ কিলোমিটার রেলওয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এ মাসের যেকোনো দিন নতুন এ রেললাইনের উদ্বোধন করেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও তমা গ্রুপ ২০১৫ সালের নভেম্বরে কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে তারা তাদের কাজ শেষ করেছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া থেকে গোপালগঞ্জ সদর হয়ে গোবরা পর্যন্ত নতুন সম্প্রসারিত ৪৪ কিলোমিটার রেলপথে পরীক্ষামূলকভাবে রেল চালিয়ে নতুন এ রেললাইনে কোথাও কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি দল। এ সময় তারা বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে এ রেললাইন দিয়ে ট্রেন চলাচলের উপযোগী কি না, তা পরীক্ষা করে দেখে।

নিম্নাঞ্চল হিসাবে খ্যাত গোপালগঞ্জ জেলা সদরে রেললাইন নির্মাণ হওয়ায় জেলাবাসী খুবই আনন্দিত। তারা এখন অল্প খরচে এবং নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন, যেতে পারবেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। রেললাইনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ জেলাবাসীর স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।

সদর উপজেলার মহাসিন সিকদার, কাশিয়ানী উপজেলার বাচ্চু শেখ বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল গোপালগঞ্জে রেললাইন হবে। আর সেই রেলে আমরা চলাচল করব। আমাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। কম খরচে ও অল্প সময়ে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারব। আমরা খুবই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কোম্পানির প্রকৌশলী এখলাসুর রহমান ও তমা গ্রুপের প্রজেক্ট ম্যানেজার এস এম নজরুল বলেন, ‘আমাদের কাজ এক কথায় শেষ। অর্থাৎ শেষ মুহূর্তের ডেকোরেশনের কাজ চলছে। ৪৪ কিলোমিটার রেললাইন, একটি রেল ব্রিজ, ৪৩টি কার্লভাট এবং ছয়টি রেলস্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য সর্বমোট ১ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারী পরিদর্শক খন্দকার শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ নতুন রেললাইন দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে বেল চলাচল করেছি। এ রেললাইন দিয়ে রেল চলাচলের উপযোগী হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিব। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অক্টোবর মাসের যেকোনো সময় এটি উদ্বোধন করার সম্ভাবনা রয়েছে।’

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার জানান, গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের সঙ্গে সঙ্গে এ প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + nine =