মামলা দ্রুত শেষ করার ষড়যন্ত্র করছে সরকার: ফখরুল

নির্বাচনের আগেই সরকার বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের মামলা দ্রুত শেষ করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় শহীদ একেএম সিদ্দিক হলে এক প্রতিবাদী সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে এখন কোনো আইনের শাসন নেই। ম্যাডামের মামলায় দেখছেন যে, কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাহেবের মামলাগুলোতেও একই ঘটনা ঘটছে। আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে যেসব মামলা ছিলো সেই মামলাগুলো এখন এক্সেপেডাইড করার জন্য সপ্তাহে তিনদিন মামলার তারিখ দিচ্ছে ।’

‘অর্থাৎ দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচনের পূর্বে তারা সব কিছু শেষ করতে চায়। বিএনপিকে এতো ভয় কেন? জনগণকে এতো ভয় কেন? কেন একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চান না? কারণ, আপনি জেনে গেছেন যে, জনপ্রিয়তা এখন আপনার শূণ্যের কোঠায় এসে গেছে।’

খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে এই পেশাজীবী সমাবেশের আয়োজন করে ‘সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ’।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আবার গর্ব করে বলেন বিশ্বনেতারা সব আমাকে চাচ্ছে, আমাদেরকে চাচ্ছে। যে দেশের জনগণ চায় না, বিশ্বনেতারা চাইলে কী ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়।’

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাদ দিয়ে তাকে এড়িয়ে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। এখানে অবশ্যই জনগণ যা চায় সেভাবে কাজ করতে হবে। আমি বলব, অনেক হয়েছে। এনাফ ইজ এনাফ। এখন দয়া করে মাথার মধ্যে একটু শুভ বুদ্ধি নিয়ে আসুন, নিয়ে এসে একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন এবং জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দিন।’

জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই ঐক্যের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো যাবে।

‘আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি এই অবস্থার অবসান করতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলে গেছেন যে, আমাদেরকে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে, জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে এই যে ভয়ংকর ফ্যাসিস্ট, এক নায়কতান্ত্রিক একটা দল, যে দল একদলীয় শাসন নিয়ে আসতে চায় তাদেরকে সরাতে হবে।’

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তারেক রহমানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব।

সংগঠনের সহসভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, অধ্যাপক এসএম রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের রিয়াজুল ইসলাম রিজু, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের শামীমুর রহমান, ছড়াকার আবু ছালেহ এতে বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 11 =