অর্থপাচার : সিনহার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক

আমেরিকায় অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সিনহার ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তার বিরুদ্ধে আমেরিকার নিউ জার্সিতে ২ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের বাড়ি ক্রয়, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের পরপরই দুই সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের টিমকে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা স্থানান্তরের বিষয়ে আরো একটি অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ৬ মে ও ২৬ সেপ্টেম্বর আট জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি কে এম শামীমসহ ছয় কর্মকর্তাকে সাড়ে ৬ ঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

এর আগে গত ৬ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুই ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা স্থানান্তরের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওই দিন তাদের সঙ্গে আসা তাদের দুই আইনজীবী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন এস কে সিনহাকে তার বাড়ি বিক্রির চার কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। আইনজীবিরা হলেন- আফাজ মাহমুদ রুবেল এবং নাজমুল আলম।

আইনজীবীরা বলেন, এস কে সিনহার উত্তরার ছয় তলা বাড়িটি পাঁচ কাঠা জমির ওপর ছিল। এ বাড়িটি ২০১৬ সালের শুরু দিকে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শান্তি রায় ছয় কোটি টাকায় ক্রয় করেন। এ সময় বায়না দলিলকালে তিনি দুই কোটি টাকা পরিশোধ করেছিলেন। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য নিরঞ্জন ও শাহজাহানের সহযোগিতা নেন। নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা শান্তি রায়ের স্বামী রনজিতের চাচা শ্বশুর। আর শাহজাহান রনজিতের বন্ধু।

তারা বলেন, বাড়ি কিনতে বাকি চার কোটি টাকা ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে নিরঞ্জন ও শাহজাহান (দুই কোটি টাকা করে) ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শান্তি রায় জামিনদার হন। জামিনদার হিসেবে টাঙ্গাইল ও ঢাকার আশে-পাশের বেশকিছু জমি বন্ধক রাখেন শান্তি।

তাদের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে জমির বায়না দলিল হয় এবং ওই বছরের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এস কে সিনহা সোনালি ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখার মাধ্যমে চার কোটি টাকা গ্রহণ করেন। পে-অর্ডারের পরে ২৪ নভেম্বর হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি শান্তি রায়কে বুঝিয়ে দেন।

দুদক সূত্র আরো জানা যায়, ২০১৬ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট যে চার কোটি টাকা শাহজাহান ও নিরঞ্জন ঋণ নেন তা একই বছরের ১৬ নভেম্বর পে-অর্ডারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করেন। ওই বিষয়ে সম্প্রতি দুদকে আসা এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তা যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × two =