খালি মাঠে গোল দিতে দেব না : মওদুদ

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও এবার সরকারকে সেই সুযোগ না দেওয়ার কথা জানিয়ে সামনের অক্টোবরে মাঠে নামতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার আর খালি মাঠে গোল দিতে দেব না। জনগণকে নিয়ে থাকবো, জনগণকে সাথে নিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে, আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটের মাধ্যমে সরকারকে অপসারণ করবো, কোনো ভায়োলেন্সের মাধ্যমে নয়।’

মওদুদ বলেন, ‘এই প্রেসক্লাবে এসব করে কাজ হবে না। সেজন্য পহেলা অক্টোবর থেকে সবাই রেডি হয়ে যান।’

এ সময় জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী কররা আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকারকে অপসারণ করতে হলে সারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, মাঠে নামতে হবে।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১ কেন্দ্রীয় কমিটি ‘ নামের একটি সংগঠন।

দেশব্যাপী বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে গায়েবী মামলা দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারাদেশের সকল গ্রামে গ্রামে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছাত্রলীগ, যুবলীগের সহায়তায় একশো দেড়শো নাম দিয়ে বাকী অজ্ঞাত রেখে মামলা দেওয়া হয়। ফ্যাসিস্ট দেশেই এটা সম্ভব, কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এটা হতে পারে না।’

নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে সব ধরনের মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া উচিত বলেও মনে করেন প্রবীন এই আইনজীবী।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রথম দিকে ঐক্য প্রক্রিয়াকে সরকার স্বাগত জানিয়েছিল। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তৃতায় স্বাগত জানিয়ে আবার তিনিই বলেছেন, এই ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তারা সবাই দুর্নীতিবাজ, সুদখোর, ঘুষখোর। এদের নিয়ে ঐক্য করা হয়েছে, এরা জনগণের জন্য কিছু করতে পারবে না।’

‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে এ ধরণের অশালীন বক্তব্য আমরা কখনও আশা করি না । প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে প্রমাণিত হয়, সরকার আতঙ্কিত হয়েছে, বিচলিত হয়েছে’, বলেন বিএনপির এই নীতি নির্ধারক।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করার অনুরোধ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তা না হলে রাজনীতিতে কোনো শালীনতা আর থাকবে না। কারণ দুর্নীতির কথা যদি বলেন বর্তমান সরকারের চাইতে গত ৫০/৬০ বছরে এত দুর্নীতি কেউ করেনি। এমনকি পাকিস্তান আমলেও না। আর আপনি আমাদেরকে দোষারোপ করছেন।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, বিএনপি নেতা মিয়া মো. আনোয়ার, জাসাস নেত্রী শাহরিয়া ইসলাম শায়লা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + 8 =