শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে পুলিশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সেবার মনোভাব, সততা এবং আন্তরিকতা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে।

রোববার সকালে রংপুর এবং গাজীপুর পুলিশের দুটি পৃথক মেট্রোপলিটন ইউনিটের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনগণ এবং রংপুর ও গাজীপুর পুলিশ লাইন্সের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে এই ইউনিট দুটির উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ইউনিটের উদ্বোধন করছি এজন্য যে, মানুষের সেবাটা যাতে নিশ্চিত হয়। কারণ, দেশের উন্নয়ন করতে হলে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা দরকার।

তিনি এ সময় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যেখানে আজ বিশ্বজুড়ে জঙ্গিবাদ একটি বড় সমস্যা সেখানে বাংলাদেশের মত একটি ঘণবসতিপূর্ণ দেশে আমরা এই জঙ্গিবাদ দমনে সাফল্য অর্জন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আমি ধন্যবাদ জানাই, তারা সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেই আজকে আমরা এই জঙ্গিবাদ দমনে সক্ষম হয়েছি। কারণ, তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। কোনো একটি ঘটনা ঘটলে দিনরাত যখনই হোক, ফোন করেছি তাদের সাড়া পেয়েছি।

তিনি বিএনপি-জামায়াতের তথাকথিত আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাসের সময় পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার নিন্দা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের ওপর আঘাত এসেছে। অগ্নিসন্ত্রাসে আমাদের ১৭ জন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অগ্নিসন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

সরকার প্রধান বলেন, আমি এটুকুই বলবো যে, একটা দেশকে উন্নত করতে হলে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা। সেক্ষেত্রে আমাদের পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে করে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসও ফিরে এসেছে। যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি, এটা আমাদের ধরে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ কারো কাছে হাত পেতে চলবে না, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে, আত্মসম্মান এবং মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাবে, বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। অবশ্যই দেশকে গড়ে তোলার জন্য আমরা সকল মানুষের জন্য সেবা নিশ্চিত করতে চাই। আর সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আমরা পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা বাড়িয়েছি। তাদের পদোন্নতির ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি।

সরকার প্রধান বলেন, এই যে নতুন মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করা হলো এতে অনেক পুলিশ সদস্যের পদোন্নতিরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের পদেরও আপগ্রেডেশন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আর্থ-সামাজিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা বাজেট বৃদ্ধি করেছি, পুলিশের বাজেটও আমরা বাড়িয়ে দিয়েছি। জেলা-উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধান করার উদ্যোগ নিচ্ছি।

উত্তরবঙ্গ এক সময় অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যে আমরা সেখানে ইপিজেড করেছি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। আর রংপুরকে যেহেতু একটা বিভাগ করেছি সেখানে বিভাগীয় সুযোগ-সুবিধাটাও যেন স্থানীয় জনগণ পায় সেভাবেই আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ রংপুর এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যেহেতু যাত্রা শুরু হচ্ছে কাজেই এই দু’অঞ্চলের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মানুষের সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী গাজীপুর এবং রংপুরের স্থানীয় জনগণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় গণভবন প্রান্ত এবং গাজীপুর ও রংপুরে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ এবং স্থানীয় উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন এবং আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।

তথ্যসূত্র : বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × three =