জাতীয় ঐক্য’র ৫ দফা দাবি সংবিধান বিরোধী: তোফায়েল

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তোলার নামে দেশের দুই প্রবীণ রাজনীতিবিদ যে ৫ দফা দাবি তুলেছেন সেগুলো সংবিধান পরিপন্থী, গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের দাবি তাদের কাছ থেকে জাতি আশা করে না।

রোববার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেন। নেপালের রাষ্ট্রদূত চোপলাল ভূষাল রোববার সকালে ঢাকায় সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী গত ১১-১৩ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনাম সফর করেন। এসব বিষয় নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

গত শনিবার পাঁচ দফা দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং নয়টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ভোটের সময় বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনসহ পাঁচ দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্ট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘গণফোরামের প্রধান ড. কামাল হোসেন এবং অন্যান্যরা মিলে যে যুক্তফ্রন্ট করতে যাচ্ছেন এটাকে অভিনন্দন জানাই। কারণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র বাংলাদেশে, তাতে যদি কোনো দল জোট করতে চায় সেটা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলা ঠিক নয় বরং তাদের স্বাগত জানাই, আমরাও অতীতে জোট করেছি। এখনও আমাদের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট আছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আছে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু তারা যে প্রস্তাব করেছেন, সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, নির্বাচন হবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অধীনে, সংবিধান অনুসারে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ মতে। নির্বাচনকালীন সরকার দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করবে। নীতিগত বড় কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেবে না এই তিন মাস। নির্বাচনকালীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সামগ্রিক সহায়তা দেবে। এটাই নিয়ম।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এই সংবিধানের বাইরে আমরা কোন অবস্থায়ই যেতে পারিনা। ড. কামাল হোসেন বা তার সঙ্গে যারা ছিলেন তারা যে বক্তব্য রেখেছেন সেটা সংবিধান পরিপন্থী, সংবিধান সেটা অ্যালাউ করবে না। আমাদের সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ছোট করে দেখি না। কিন্তু আমরা চাই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে এমপি হয়েছিলেন। ‘৮৬ ও ‘৯১ সালে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও কোনো নির্বাচনে বিজয়ী হননি। আমরা আশা করি এবার তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং বিজয়ী হবেন। দেশের মানুষ তাদেরকে বেশি ভালোবাসে যারা দলছুট না। ঘন ঘন যারা দল বদলায়, নীতি বদলায় তাদেরকে মানুষ পছন্দ করে না, আমি ছোট মুখে বড় কথা বললাম।’

কামাল হোসেন এবং বি চৌধুরীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি চেয়েও পাননি বলে যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয় বলে জানান তোফায়েল।

তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি দেওয়া হয় না বলে তারা দাবি করেছেন। দরখাস্তই করেননি বলে পারমিশন পাননি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাদের সেখানে সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে, মঞ্চও করে দেওয়া হবে।’

সরকারের বিরুদ্ধে ‘নালিশ’ জানাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতিসংঘে যাওয়ায় তার কঠোর সমালোচনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নালিশ করতে যান কিন্তু সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। অ্যাসিসটেন্ট সেক্রটারি আর ডেস্ক অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করলে বাংলাদেশের মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 20 =