সরকারি হলো দেশের ২৭১টি বেসরকারি কলেজ

দেশের ২৭১টি বেসরকারি কলেজ সরকারি করা হয়েছে। এসব কলেজে অন্তত ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এ নিয়ে এখন দেশে সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৯৮।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব নাসিম খানম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত আদেশটি জারি হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পর আজ আদেশ জারি করা হলো। আজ রোববার থেকেই তারা সরকারি বেতন-ভাতাসহ সব সুবিধা পাবেন।

যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেখানে একটি করে কলেজকে জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়। তার মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এই ২৭১টি কলেজ সরকারি হলো।

গত ২ আগস্ট এ সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার এটি অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সারসংক্ষেপটি ফের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসে। এর পর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই এ সংক্রান্ত ‘সরকারিকৃত কলেজশিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকৃত বিধিমালা ২০১৮’ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিধি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে বেসরকারি কলেজের যেকোনো শিক্ষক শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদে নিয়োগ পেতে পিএসসির অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে সরকারি হওয়া কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকরা নন-ক্যাডার হিসেবে নিজ নিজ পদে নিয়োগ পাবেন। তাদের চাকরি বদলিযোগ্য নয়।

সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা জেলার ৪টি, মানিকগঞ্জের ৪টি, নারয়ণগঞ্জের ৩টি, মুন্সীগঞ্জের ৩টি, গাজীপুরের ৩টি, নরসিংদীর ৪টি, রাজবাড়ির ২টি, শরীয়তপুরের ৪টি, ময়মনসিংহের ৮টি, কিশোরগঞ্জের ১০টি, নেত্রকোনার ৫টি, টাঙ্গাইলের ৮টি, জামালপুরের ৩টি, শেরপুরের ৩টি, চট্টগ্রামের ১০টি, কক্সবাজারের ৫টি, রাঙামাটির ৪টি, খাগড়াছড়ির ৬টি, বান্দরবানের ৩টি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ফেনীতে একটি করে, কুমিল্লার ১০টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি, চাঁদপুরের ৭টি, সিলেটের ৯টি, হবিগঞ্জের ৫টি, মৌলভীবাজারের ৫টি, সুনামগঞ্জের ৮টি, রাজশাহীতে ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২টি, নাটোরের ৩টি, পাবনার ৭টি, সিরাজগঞ্জের ৩টি, নওগাঁ জেলার ৬টি, বগুড়ার ৬টি, জয়পুরেহাটের একটি, রংপুরের ৭টি, নীলফামারীর ৪টি, গাইবান্ধার ৪টি, কুড়িগ্রামের ৭টি, দিনাজপুরের ৯টি লালমনিরহাটের ৩টি, ঠাকুরগাঁওয়ের ১টি, পঞ্চগড়ের ৪টি, খুলনার ৫টি, যশোরের ৫টি, বাগেরহাটের ৬টি, ঝিনাইদহের একটি, কুষ্টিয়ার ২টি, চুয়াডাঙ্গার ২টি, সাতক্ষীরার ২টি, মাগুরার ৩টি, নড়াইলের একটি, বরিশালের ৬টি, ভোলার ৪টি, ঝালকাঠির ৩টি, পিরোজপুরের দুটি, পটুয়াখালীর ৬টি, বরগুনার তিনটি কলেজ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + 7 =