ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় শিক্ষার্থীরা

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে পঞ্চমদিনের মতো রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচলকারী যানবাহনে ট্রাফিকের ভূমিকায় থেকে লাইসেন্স চেক করছেন। দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন দায়িত্বশীল ট্রাফিক পুলিশ!

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শাহবাগে প্রবেশের প্রতিটি মোড়ে একটি করে লেন তৈরি করেন ছাত্ররা। মোড়ের চেক পয়েন্টে দাঁড়িয়ে একেকটি গ্রুপ হয়ে চালকের লাইসেন্স দেখছেন। লাইসেন্স পেলে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যাদের লাইসেন্স নেই, তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। পুলিশ মামলাও দিচ্ছে। দুপুর ১২টার দিকে লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবর রহমানের গাড়ির চালকের বিরুদ্ধেও মামলা হয় এখানে। তবে এ সময় মুখ্য সচিব গাড়িতে ছিলেন না। শিক্ষার্থীরা গাড়ি আটকে চালকের লাইসেন্স দেখতে চায়। দেখা যায়, লাইসেন্সটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এরপর সেখানে কর্তব্যরত সার্জেন্ট জাফর ইমাম লাইসেন্স নবায়ন না করায় একটি মামলা করেন। বিজয় সরণির মোড়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্নযানের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। অবশ্য এ সময় ট্রাফিক পুলিশ আংশিক ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। তেজগাঁও কলেজসহ, বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা অবস্থান নেয়। আর সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও নিউমার্কেট এলাকায়ও একই অবস্থা দেখা যায়।

মতিঝিল শাপলা চত্বরে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। এখানেও তারা নানা শ্লোগান দিচ্ছেন। একই সঙ্গে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস চেক করছে। আশপাশের রাস্তায় রয়েছে তীব্র যানজট। চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেসের কাগজ আছে কি না -তা পরীক্ষা করছেন তারা। এখানে তারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এখানে কোনো যানবহান ভাঙচুরের দৃশ্য চোখে পড়েনি। আর তারা যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য বিপুল পরিমাণ পুলিশ, র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে। একই সঙ্গে তারা যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেটিও দেখা হচ্ছে।’

তারা যে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায়? এমন প্রশ্নে পুলিশের এ কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যান।

এদিকে দুপুর ১টার দিকে উইনার পরিবহনের একটি বাস আটকায় শিক্ষার্থীরা। বাসটি যাত্রী নিয়ে গুলশান থেকে আজিমপুরের দিকে যাচ্ছিল। ল্যাব এইডের সামনে আসার পর শিক্ষার্থীরা বাসটি থামিয়ে চালকের লাইসেন্স দেখতে চায়। চালক বৈধ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হলে বাসটি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিহঙ্গ পরিবহনের আরেকটি বাস থামিয়ে চালকের লাইসেন্স দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া পুরান ঢাকার বিভিন্ন মোড়, বাড্ডার থেকে আবুল হোটেল ব্লক, নতুনবাজার, মহাখালী, গুলশান-মিরপুর ফার্মগেটসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছাত্ররা যানবাহনে ফিটনেস পরীক্ষা করছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × four =