পদত্যাগে সমাধান নয়, দুর্ঘটনার শাস্তি হবে : শাজাহান খান

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেই সমাধান হবে না, বরং আমার নেতৃত্বে কাজ করার ফলে বর্তমান সরকার আমলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর জন্য বর্তমানে সরকারের যেসব কার্যক্রম সবটাই আমার নেতৃত্বে হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ছাত্রদের পদত্যাগ দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে এ কথা বলেন তিনি।

শাজাহান খান বলেন, ‘আমি ছাত্র বন্ধুদের বলতে চাই, পদত্যাগ করলেই কী এই সমস্যা সমাধান হবে, হবে না। আমি ছাত্র বন্ধুদের বলব, আপনারা অপেক্ষা করুন, ধৈর্য্য ধরুন, দেখেন সরকার কি করে। এর জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

মন্ত্রী বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য ঘটেছে তার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে আমি শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে বলব, আমাদের কাছে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে, এ দুর্ঘটনার জন্য ড্রাইভার দায়ী। এখন তদন্তে প্রমাণ হলে আমরাও চাইব, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা কেউ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব না।

সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় বলা হয় সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তি হয় না, এটা ঢালাওভাবে বলা ঠিক না। দুর্ঘটনার জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদেও বলেছেন, কয়েক বছরে সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রায় ১ হাজার ৩০০ ড্রাইভারের শাস্তি হয়েছে। এটা সত্য যে, দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি হচ্ছে। যদিও আপনারা লিখেন না। কিন্তু শাস্তি ঠিকই হচ্ছে’- বলেন নৌমন্ত্রী।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী জাবালে নূর পরিবহনের মালিক আপনার শ্যালক কি না-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি আদৌ জানি না, চিনিও না। কোনটার মালিক কে-সত্যি জানি না। তারপরও আমি খবর নেব। আমার আত্মীয় কেউ নাই এ কথা আমি জোর দিয়ে বলছি না।

পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে আপনার কেউ আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী স্বীকার করে বলেন, পরিবহন ব্যবসা আমাদের আদি ব্যবসা। ১৯৬২ সাল থেকে এই ব্যবসায় জড়িত। আমার ভাইরা পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন।

এর আগে রোববার দুর্ঘটনার পর সচিবালয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে শাজাহান খান বলেন, যে যতটুকু অপরাধ করবে সে সেভাবে শাস্তি পাবে। যে শাস্তি হবে সেই শাস্তি নিয়ে বিরোধিতার কোনো সুযোগ এখানে নেই।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্রে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছেন। এখন সেখানে কী…আমরা যেভাবে এগুলোকে নিয়ে কথা বলি, এগুলো কি ওখানে বলে। আমি মনে করি এ বিষয়ে যদি আপনারা আলোচনা করতে চান, এটা নিয়ে পরে আলোচনা হবে।

এ সময় এক সাংবাদিক বলেন, মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা যাওয়া, আর রেগুলার দুর্ঘটনা ঘটা….’ তখন নৌমন্ত্রী তাকে শেষ করতে না দিয়ে বলেন, ‘আপনি কী জানেন ভারতে প্রতি ঘণ্টায় কত লোক দুর্ঘটনায় মারা যায়? ১৬ জন। আপনারাই রিপোর্ট করেছেন।’

মন্ত্রীর এই বক্তব্য শোনার পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ার এক পর্যায়ে সোমবার সকাল থেকে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে তারা বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে এবং নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

রোববার দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী।

চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যাওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন-শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − seven =