বাড্ডা ইউলুপ চালু হচ্ছে শনিবার

যানজট ভোগান্তির অবসান ঘটাতে অবশেষে শনিবার চালু হতে যাচ্ছে রাজধানীর বাড্ডা ইউলুপ।

বাড্ডার এই ইউলুপটি চালু হলে যানবাহন প্রগতি সরণি হয়ে ইউলুপ দিয়ে বাঁক নিয়ে বনশ্রী, আফতাবনগর, রামপুরা বা মালিবাগ অভিমুখে যাতায়াত করবে। এতে বাড্ডা পয়েন্টে ব্যাপক যানজটের অবসান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (রাজউক) জামাল আক্তার ভূঁইয়া বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ইউলুপটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে উদ্বোধন করবেন। এরপরই এটি সাধারণের যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

হাতিরঝিল মোড় থেকে রামপুরা সেতু হয়ে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের দিকে এগোলে মেরুল বাড্ডা। সেখানেই বাড্ডা প্রান্তের ইউলুপ। বাড্ডায় এই ইউলুপ চালু হলে রামপুরা, বনশ্রী বা আফতাবনগর যাওয়ার জন্য বিভিন্ন গাড়ি সহজে লেন পরিবর্তন করতে পারবে। এ ছাড়া এয়ারপোর্ট, মেরুল বাড্ডা, শাহজাদপুর, গুলশান ও কুড়িল যাওয়ার জন্য রাস্তার লেনটিও হবে ট্রাফিক সিগন্যালমুক্ত। যেসব গাড়ির প্রয়োজন হবে, সেগুলো সহজেই ইউলুপ ব্যবহার করে লেন পরিবর্তন করতে পারবে। এর ফলে ট্রাফিক সিগন্যালের কারণে এখন যে যানজট সৃষ্টি হয়, তা তখন আর থাকবে না।’

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে যানজটপ্রবণ মালিবাগ-নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে রামপুরা ও বাড্ডা প্রান্তে দুটি ইউলুপ নির্মাণের পরিকল্পনা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর মধ্যে গত বছরের ২৫ জুন রামপুরা প্রান্তের (দক্ষিণ) ইউলুপটি চালু হয়। দ্বিতীয়টি বাড্ডা ইউলুপ। গুলশান-বাড্ডা সংযোগ সড়কের কাছে মেরুল বাড্ডায় এর অবস্থান। বাড্ডা ইউলুপটি দৈর্ঘ্যে ৪৫০ ও প্রস্থে ১০ মিটার। প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। কিন্তু দুই বছরেরও বেশি সময় আগে ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে শুরু হওয়া বাড্ডা ইউলুপটির কাজ চলেছে কচ্ছপ গতিতে। কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে এর প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ প্রকৌশল নির্মাণ ব্যাটালিয়ন। নির্মাণকাজের দায়িত্বে আছে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। গত বছরের ডিসেম্বরে ইউলুপটি চালুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এরপর পঞ্চমবারের মতো আরও দেড় বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শনিবার চালু হতে যাচ্ছে ইউলুপটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × five =