ফল প্রকাশে বিলম্ব, এগিয়ে ইমরানের পিটিআই

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে প্রায় এক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ফল ঘোষণা করা হয়নি।

তবে প্রাথমিক বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ১১৯ আসনে এগিয়ে রয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ডন এ খবর দিয়ে বলেছে, প্রাথমিকভাবে ভোট গণনায় অন্যান্য দলের মধ্যে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৬১ আসনে এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এগিয়ে আছে ৪০ আসনে। এছাড়া, পাকিস্তান মুত্তাহিদা মজলিস আমল (এমএমএ) ও এমকিউএম এগিয়ে রয়েছে আটটি আসনে।

ভোট গ্রহণ শেষে যে ৪৯ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে তাতে এ ফল পাওয়া গেছে। এদিকে, প্রাথমিক ফল দেখে ইমরান খানের দল পিটিআই আনন্দ-উল্লাস করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইমরান খানের দল সরকার গঠন করবে এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন ইমরান খান। বুধবার মধ্যরাতে পিটিআইর অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় ইমরান খানকে ‘উজিরে আজম’ হিসেবে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্টও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নওয়াজ শরীফ অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ করে ফল প্রত্যাখ্যান করার কথা বলেছেন।

ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) এবং অন্যতম বড় দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। তবে তাতে কান দেয়নি নির্বাচন কমিশন।

এদিকে, পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো ঘোষণা না করার কারণ হিসেবে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন টেকনিক্যাল সমস্যার কথা বলেছে। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ রাজা খান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এই ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করায় দেরি হচ্ছে।

এর আগে বুধবার সহিংসতা, বোমা হামলা, নানা অভিযোগের মধ্যদিয়ে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোট গ্রহণ চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সকালে কোয়েটায় একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত হন।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ২৭৪ আসন রয়েছে। এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কোনো দলকে ১৩৭ আসনে জয়লাভ করতে হবে। তবে আসন সংখ্যা ২৭৪ হলেও দুটি আসনে ভোট স্থগিত হওয়ায় ২৭২ আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। এছাড়া, নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য ৭০টি আসন নির্ধারিত রয়েছে। বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে সংখ্যানুপাতে তা বণ্টন হবে।

কোনো দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে তাহলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে। তখন ছোট দলের সমর্থন নিয়ে জোট সরকার গঠন করবে এককভাবে বেশি আসনে জয়ী দল।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের ৭০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার আরেকটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে যাচ্ছে। তবে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশটিতে বারবার রাষ্ট্র পরিচালনায় সেনা হস্তক্ষেপের কারণে বিভিন্ন সময়ে মেয়াদ পূর্তির আগেই পার্লামেন্ট ভেঙে গেছে বা প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। এ কারণে এবারের নির্বাচনকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিশ্ব গণমাধ্যমগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 1 =